সোনাগাছির নিষিদ্ধপল্লীতে চড়া রেটে বিকোচ্ছে পুজোর রাত

0
161

রানি, সোনালিদের ‘রেট’ এমনিতে  ৪০০ কি ৫০০টাকা৷ কিন্তু পুজোর ক’দিন অন্য হিসেব৷ এই কটা রাত তেমন ‘সস্তা’ নয় সোনাগাছিতে৷ আর তাই ৪০০ টাকার রাত বিকোচ্ছে ৭০০-৮০০তেও৷ হ্যাঁ, অন্য সবকিছুর মতো পুজোর দিনে সোনাগাছির রাতের দামও চড়া৷

শহর জুড়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে৷ এর প্রভাব পড়ে সোনাগাছির নিষিদ্ধপল্লীতেও৷বছরের অন্য রাতগুলোর থেকে পুজোর রাতেই কিছু বেশি পয়সার মুখ দেখেন যৌনকর্মীরা৷ তাই অন্য ব্যবসায়ীদের মতো তাঁরাও সারাবছর অপেক্ষা করেন এই কয়েকটা দিনের জন্য৷আসলে ওদের কাছে পুজো মানে সেজেগুজে ঠাকুর দেখতে যাওয়া নয়৷ ওদের পুজো মানে দু-পয়সা বেশী রোজগারের জন্য খদ্দেরের অপেক্ষা করা৷ চরম ব্যস্ততার মধ্যেই তাই দুর্গাপুজোর কটারাত কাটে তাঁদের৷ কেননা  এই সময়টা শুধু ‘বাঁধা খদ্দের’রা আসেন না তা নয়৷

জুটে যায় ‘ফ্লাইং কাস্টমার’ও৷ শহরতলী থেকে কাতারে কাতারে মানুষ প্রতিমা দর্শন করতে আসেন কলকাতায়৷ তবে প্রতিমা দর্শন যে নেহাতই অছিলা তা হাড়ে হাড়ে টের পান যৌনকর্মীরা৷ তল্লাট জুড়ে এ সময় বহু অচেনা মুখ৷ চোখেমুখে অস্বস্তি দেখলেই রানি, সোনালিরা টের পেয়ে যান, এরা একবারের ‘খদ্দের’৷ ঠাকুর দেখার নাম করে যৌনকামনা চরিতার্থ করতেই ঢুকে পড়েছেন নিষিদ্ধপল্লির অন্ধকারে৷ অতএব ঝোপ বুঝে কোপ মারতে তাঁরাও দ্বিধা করেন৷ চড়া ‘রেট’ হেঁকে বসেন৷ আর পুজোর সময় এই ‘কাস্টমার’রা তা দিয়েও দেন৷ কোন বাকবিতণ্ডা ছাড়াই৷ ফলে যত খদ্দের বেশি ধরা যায়, ততো লাভের মুথ দেখেন এঁরা৷ আর তাই চড়া রেটে তুমুল ব্যস্ততায় পেরতে থাকে সোনাগাছির রাত৷

কিন্তু এইসব দিনে বাঁধা বাবুরা যান কোথায়?   যৌনকর্মীরাই জানাচ্ছেন, শাড়ি, টাকা দেওয়ার ভয়ে পুজোর কটাদিন গা ঢাকা দেয় তারা৷ পুজো মিটে গেলে আবার তাদের দেখা মেলে৷এটাই এখানকার চিরাচরিত রীতি৷ তখন আবার পুরনো ‘রেট’৷ তবে হাতে গোণা কিছু ‘বাবু’ অবশ্য তাঁদের আবদার মেটায়৷

পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন আপামর বাঙালি৷ হাতে দুটো পয়সা নিয়ে সাধ্যমতো সাধ-আহ্লাদ মেটাচ্ছেন সকলে৷ কিন্তু তাঁদের আহ্লাদ পূরণে তেমন কেউ এগিয়ে তো আসবে না৷ পুজোর দিন হোক আর যাইই হোক, শরীরি চাহিদা মিটে গেলে ‘রেট’ ছাড়া হাতে কেউ দুটো বেশি টাকাও গুঁজে দেবে না৷ আবছায়া মাখা সোনাগাছির গলিতে অচেনা কাস্টমারের মুখ খুঁজে চড়া রেট হাঁকতে হাঁকতে রানি, সোনালিরা শুধু জানেন, শরীর বেচার এই বাড়তি আয়ই তাঁদের ‘বোনাস’৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here