সুড়ঙ্গ দিয়ে যেভাবে ব্রহ্মপুত্রের পানি সরিয়ে নেবে চীন !!

0
27

Remove the water by tunnel

চীন সুড়ঙ্গ তৈরি করে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নিতে চাইছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে করে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

হংকংয়ের সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর, চীনের ইঞ্জিনিয়াররা রাতদিন খেটে নয়া প্রযুক্তি আনতে চলেছে। যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর দীর্ঘতম টানেল নির্মাণ করতে চলেছেন চীনের প্রযুক্তিবিদরা। আর ওই এক হাজার কিলোমিটার লম্বা টানেল দিয়ে তিব্বত থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি তুলে নিয়ে যাবে সুদূঢ় জিনজিয়াং প্রদেশে। লক্ষ্য শুখা জিনজিয়াং প্রদেশকে শস্যশ্যামল করে তোলা। পানির অভাব দূর করে মরুভূমি এলাকা জিনজিয়াং প্রদেশকে ‘ক্যালিফোর্নিয়া’ বানাতে চায় চীন। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ ভাটিতে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর কুফল ভোগ করতে হবে ভারত, বাংলাদেশকে। উল্লেখ্য, ব্রহ্মপুত্র নদ চীনের তিব্বতে উৎপন্ন হয়ে ভারত এবং ভাটিতে বাংলাদেশে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

ব্রহ্মপুত্রকে নিয়ে ফের পানিঘোলা করতে শুরু করেছে চীন। এই নদের পানি সংক্রান্ত তথ্য ভারতের হাতে তুলে না দেয়ায় নয়াদিল্লির ক্ষোভ যখন বাড়ছে, তখনই সামনে এলো ব্রহ্মপুত্রকে নিয়ে বেইজিং-এর এক নতুন পরিকল্পনার কথা। যা দু’দেশের সম্পর্কে ফের টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। হংকং-এর একটি সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, চীন সরকার ব্রহ্মপুত্র থেকে ১০০০ কিমি টানেলের মধ্যে দিয়ে তিব্বতে পানি নিয়ে যেতে চাইছে। এতটা দীর্ঘ টানেল বিশ্বের কোথাও নেই। কী ভাবে এটি তৈরি করা যায়, সে ব্যাপারে চীনা প্রযুক্তিবিদরা পরিকল্পনা করছেন বলে স‌ংবাদপত্রটি জানিয়েছে। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দেয়ার প্রশ্ন নিয়ে ভারত এত দিন বেইজিং-এর কাছে ক্ষোভ জানিয়ে এসেছে। আর এই নতুন পরিকল্পনা নয়াদিল্লির স্বার্থবিরোধী হবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কারণ, জিংজ্যাং এলাকার জন্য পানি নেয়া হবে দক্ষিণ তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদ থেকে। ভারতে ঢুকে যা ব্রহ্মপুত্র নাম নিয়েছে।

বর্তমানের খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর চীনের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। চীন গত ২০১৫ সালের অক্টোবরে তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ চালু করে। ভারতীয় সীমান্ত থেকে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার দূরে এই প্রকল্পের অবস্থান। এরমধ্যে জেকসু, জাংমু ও জিয়াচা ড্যাম ২৫ কিলোমিটার পরপর অবস্থিত।

এতে বলা হয়, নয়াদিল্লি এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, এই প্রকল্পের ফলে একদিকে শুকনো মরশুমে ব্রহ্মপুত্রে পানির সংকট দেখা দেবে। আবার অসময়ে বাড়তি পানি ছেড়ে দিলে ভারতীয় অংশে বন্যার প্রকোপ বাড়বে। অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্রে অবস্থিত প্রকল্পগুলি, বিশেষ করে আপার সিহাং ও লোয়ার ধানসিড়ি প্রকল্পের ক্ষতি হতে পারে।

যদিও চীন দাবি করে আসছে, তাদের প্রকল্পের জন্য ভারত কিংবা বাংলাদেশ কোনো দেশেরই ক্ষতি হবে না। কিন্তু টানেল বানিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি তিব্বত থেকে চীনের অন্য প্রদেশে পাচার হয়ে গেলে ভারতের মাটি যে শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যাবে, তা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছে না বেইজিং।

বর্তমান নামের নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের কাছে ভারতের মূল যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অভিন্ন নদীতে বাঁধের মতো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে অথবা পানিপ্রবাহ প্রত্যাহারের মতো কিছু ঘটলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা হতে হবে। এ ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান হল ভারত ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পানিবণ্টন চুক্তি। নয়াদিল্লি বেইজিংয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে চায় তারা ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে জমানো পানি সেচ বা অন্য কোনো কাজের জন্য প্রত্যাহার করে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে না। চীনকে অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো প্রতিবেশীর আহ্বানে সাড়া দিতে দেখা যায়নি। ভারত-বাংলাদেশকে অন্ধকারে রেখে তারা গোপনে ব্রহ্মপুত্রের পানি পাচার করতে চাইছে তাদেরই অন্য প্রদেশে। আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here