সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষে যাওয়ার ঘোষনা উ. কোরিয়ার

0
9

অনলাইন ডেক্স: উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন সে দেশের শীর্ষ নেতা কিম জং-উন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-কে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এই খবর দিয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বশেষ উ. কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানানোর খানিক পরেই কিম নিজের এই সামরিক উচ্চাভিলাষের কথা জানিয়েছেন।

 

 

জাপানকে ‘সাগরে ডুবিয়ে’ দেয়ার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জাপানের উপর দিয়ে মাঝারি-থেকে-দূরপাল্লার হুয়াসং-১২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। উত্তর কোরিয়ার নেতা দাবি করেছেন, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে তার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেয়া সত্ত্বেও দেশের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে পরিপূর্ণতা দেয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
গত মাসে (আগস্ট) উত্তর কোরিয়া এমন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা যায়। পিয়ংইয়ং বহুবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্র বহনযোগ্য একটি হাউড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করে পিয়ং ইয়ং। ষষ্ঠ দফায় চালানো এই পরমাণু পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের সবাই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে রায় দেয়। কয়লা, সীসা ও সামুদ্রিক খাদ্য রফতানিকে এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
শুক্রবার ‌আবারও উ. কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর প্রতিক্রিয়াঢ রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে। এতে উ. কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তীব্র নিন্দা জানানো হয় । তবে নতুন করে কোনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি তাদেরকে। এর খানিক পরেই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে কিম জং-উন বলেছেন, “সামরিক শক্তিতে আমেরিকার সম অবস্থানে পৌঁছানো হচ্ছে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য যাতে মার্কিন শাসকরা আর কখনো উত্তর কোরিয়ায় সামরিক হামলার হুমকি দেয়ার ধৃষ্টতা না দেখায়।”
শুক্রবারের উ. কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে উড্ডয়নের পর জাপানের কর্মকর্তারা নিয়মিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান বন্ধ করে হোক্কাইদো দ্বীপের অধিবাসীদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণ সে আহ্বানে সাড়া দেয়। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটি হোক্কাইদো দ্বীপে আঘাত হানার পরিবর্তে এর আকাশ দিয়ে উড়ে যায় এবং দ্বীপটিকে অতিক্রম করে আরো ২,২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here