সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলা, মেডিকেলে ভর্তি

0
23

keya-1

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মীরপুরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে মীরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ সংলগ্ন বেদে পল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সময় তার ওপর ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

গত শনিবার উপ-নির্বাচনে বিজয়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া এবং জেলা পরিষদের সদস্য সাহেদ মিয়ার নেতৃত্বে এই হামলা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে র‌্যাবসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় অসুস্থবোধ করায় কেয়া চৌধুরীকে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গত মাসে বাহুবলে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আবদুল মুমিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার মদদে সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরীকে বাধা দেন। পরবর্তিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে কেয়া চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আরেক অনুষ্ঠানে গিয়ে হামলার শিকার হলেন কেয়া চৌধুরী।

সম্প্রতি অগ্নিকা-ে মীরপুরের বেদে পল্লীর ২১ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অনুদান বরাদ্দ হয়। উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতর ও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উদ্যোগে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে কেয়া চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করা হয়।

বিকেলে অনুষ্ঠানে আসরের নামাজের বিরতির সময় তারা মিয়া ও সাহেদ মিয়ার নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক লোকজন অনুষ্ঠানস্থলে এসে কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এসময় তারা কেয়া চৌধুরীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি ‘কে তোকে এখানে আসতে বলেছে’ ‘কে তোকে এমপি বানিয়েছে’- এমন মন্তব্য করে। এই সময় কেয়া চৌধুরী মোবাইলে ছবি তুলতে গেলে হামলাকারীরা তা ছিনিয়ে নেয়।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জমিস উদ্দিন সমকালকে জানান, মীরপুরের বেদে পল্লীতে অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের কিছু লোক তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হামলা চালায়। তবে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার জন্য শেষপর্যন্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে হামলাকারী কারা বা সেই সময়ে পুলিশের ভূমিকাসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে বাহুবল থানার ওসি মাসুক আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সব শুনে ব্যস্ততার অজুহাতে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

এই ঘটনার জন্য উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ওলিউর রহমান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া এবং জেলা পরিষদ সদস্য সাহেদ মিয়াকে অভিযুক্ত করেন।

শুক্রবার রাতে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পরামর্শে কেয়া চৌধুরীকে অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটে আনা হয়। কেয়া চৌধুরী মোবাইলে কথা বলতে পারবেন না উল্লেখ করে অ্যাম্বুলেন্সে সঙ্গে থাকা ওলিউর রহমান বলেন, এমপি’র ওপর শারীরিকভাবে হামলার পাশাপাশি হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। এই সময় তারা কেয়া চৌধুরীকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও কটূক্তি করে বলে জানান তিনি।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাহুবল উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি হয়েও বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে নিয়ে চলাফেরা করেন কেয়া চৌধুরী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলেও হামলা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন তারা মিয়া।

তিনি দাবি করেন, উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে কেয়া চৌধুরী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ফিরোজ আলীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এজন্যই কি হামলা- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, মোবাইলে ছবি তোলা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here