লবণ সহিষ্ণু ধান আবিষ্কার করে নতুন যুগের সূচনা চীনের!

0
29

Rice plantation china-

লবণাক্ত পানিতে উৎপাদনে সক্ষম ধান আবিষ্কার করে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে চীনা বিজ্ঞানীরা। নতুন এই ধান দেশটির প্রায় ২০ কোটি মানুষের মুখে আহার যোগাবে।

চীনের শেংডঙের কিংদাওয়ে অবস্থিত স্যালাইন-অ্যালকালি টলারেন্ট রাইস রিসার্চ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের উদ্যোগে লবণ সহিষ্ণু ধান উৎপাদনে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পিৎ সাগরের তীরবর্তী লবনাক্ত এলাকাগুলোতে নতুন আবিষ্কৃত ধানের চারা রোপন করা হয়। সম্প্রতি ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওইসব এলাকায় হেক্টর প্রতি ৬.৫ থেকে ৯.৩ টন চাল উৎপাদনের কথা নিশ্চিত করেছে। চীনা হাইব্রিড ধানের জনক কৃষি বিজ্ঞানী উয়ান লংপিং এই জাতের ধানের আবিষ্কর্তা। তাই তার নাম অনুসারেই নতুন ধানটির নামকরণ করা হয়েছে ‘উয়ান মি’।

চীনা বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন ধানটির ফলন তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় তারা প্রত্যাশা করেছিলো প্রতি হেক্টরে অন্তত ৪.৫ টন খাদ্য শস্য উৎপন্ন হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে, ধানটির ফলন হয়েছে তাদের প্রত্যাশারও দ্বিগুন প্রায় ৯ টন।

চীনে প্রায় ১০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকায় উচ্চমাত্রায় লবণ এবং ক্ষার রয়েছে। তাই ওইসব এলাকায় আবাদ করে কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন টন নতুন জাতের ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আর নতুন ধানের চাল থেকে রান্না করা ভাত নিয়েও কোন নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং অনেকেই এর স্বাদকে সুস্বাদু বলে অভিহিত করছে। শুধু তাই নয়, লবণাক্ত পানিতে জন্মাবার কারণে নতুন ধানের ভাতে ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য খনিজ উপাদানেরও প্রচুর্য্য রয়েছে। এমনকি মানব শরীরকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে সুরক্ষা দিতেও সক্ষম হবে ওই ভাত।

ইতোমধ্যে নতুন চালটি নিয়ে চীনে সাড়া পড়ে গেছে। প্রায় ৬ টন চাল বিক্রি হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার গ্রাহক ওই চাল পেতে আবেদন জানিয়েছে। আর যেহেতু নতুন চালটি গ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে তাই এর দামও বর্তমানে অনেক বেশি। সাধারণ অন্যান্য চালের চেয়ে নতুন চালটি প্রায় ৮ গুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here