রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকটের মুখে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
16

রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ নজীরবিহীন সংকটের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকটের মুখে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। গত তিন সপ্তাহে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশ সীমান্তের ৪০ কিলোমিটার ব্যাপ্তির মধ্যে প্রায় চার লাখ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক অনুপ্রবেশ করেছে। এসব আশ্রয় প্রার্থীর বেশিরভাগই নারী, শিশু এবং বয়স্ক। এর আগেও প্রায় চার লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই কক্সবাজারে অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছে। ফলে লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, এ সংকটাপন্ন মুহূর্তে জাতিসঙ্ঘে সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারনগুলো তুলে ধরে তা সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো সুস্পষ্টভাবে উত্থাপন করা হবে। একইসাথে রোহিঙ্গাদের ওপরে চলমান জাতিগত নির্মূল অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাব।

আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাতিসঙ্ঘ সাধারন অধিবেশনে যোগ দেয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এসব কথা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সাধারন অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী রোববার নিউ ইয়র্ক পৌঁছাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন। প্রতিবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো তুলে ধরে এর আশু সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবসমূহ সুস্পষ্টভাবে উত্থাপন করবেন। তিনি অবিলম্বে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপরে পরিচালিত জাতিগত নিধন অভিযানকে মানবতা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে যেকোনো গণহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাবেন। তিনি একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানাবেন। পাশপাশি তিনি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরবেন।

মাহমুদ আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আদায়, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের কর্মপন্থা ও সাফল্যের কথা তুলে ধরবেন। একই সাথে তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু বিষয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) কন্টাক গ্রুপের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় সম্প্রতিকালে রোহিঙ্গাদের ওপরে মিয়ানমার সরকারের সহিংসতা, নিপীড়ন এবং এর ফলশ্রুতিতে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দুর্দশা তুলে ধরবেন এবং সমস্যার আশু সমাধানে মুসলিম উম্মার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করবেন। ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ইথিওপিয়া আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান পর্যায়ের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন। বৈঠকে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পুনর্গঠন এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ আলী বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও অতিমাত্রায় বল প্রয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ যে বিবৃতি দিয়েছে, বাংলাদেশ তাকে স্বাগত জানায়। নিরাপত্তা পরিষদের এ অবস্থান খুবই সময় উপযোগী ও দৃঢ়। বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এ ধরনেরই একটি অবস্থান আশা করছিল।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রস্তাব মিয়ানমার প্রত্যাখান করেছে – এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহমুদ আলী বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর অং সান সু চি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তার দফতরের একজন মন্ত্রীর সাথে নিউ ইয়র্কে আমার কথা হবে। সে সময় এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকবে।

জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকটের মুখে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here