রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুচি !

0
29

sukye

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে ফিলিপিন্সভিত্তিক ম্যানিলা বুলেটিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ৩১তম সম্মেলনে যোগ দিতে ম্যানিলায় আছেন সু চি।সোমবার সম্মেলনের একটি প্লেনারি সেশনেমিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দেন বলে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র হ্যারি রক জানিয়েছেন।

রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মিয়ানমার বলেছে, তারা কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আছে, তারা ত্রাণ সহায়তাকে স্বাগত জানাচ্ছে।“এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিরা ওই অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট আলোচনায় তোলে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন ফিলিপিন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে গত ২৫ অগাস্ট থেকে আড়াই মাসে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে গত কয়েক দশক ধরে। তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার তাগাদা দেওয়া হলেও তাতে গা করেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।অগাস্টে রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মধ্যে মিয়ানমারের তরফ থেকে বলা হয়, ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফিরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত।

এর ধারাবাহিকতায় সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে অক্টোবরের শুরুতে ঢাকায় এলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই দেশ একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়। এরপর গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মিয়ানমারে যান।সেখানে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

১৯৯২ সালের চুক্তি এখন আর ‘বাস্তবসম্মত নয়’ জানিয়ে ওই বৈঠকে নতুন একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে মিয়ানমারের জবাব এখনও পায়নি বাংলাদেশ।এদিকে রাখাইন রাজ্যে অভিযানের দায়িত্বে থাকা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল মাউং সোয়েকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here