যশোর কারাগারে দুই চরমপন্থী নেতার ফাঁসি কার্যকর

0
24

jessore_The leader is executed

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বার হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আসামীরা হচ্ছে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা আবদুল মোকিম ও গোলাম রসুল।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। যশোর কারাগারের সিনিয়ার জেল সুপার কামাল হোসেন রাত ১২টায় যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিকেল থেকেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাাগারে ফাঁসির প্রস্তুতি নেয়া হয়। সন্ধ্যার পর কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায় কারাগারে প্রবেশ করেন।

এরপর রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রাত ১২টায় সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন জেল গেটে প্রেসব্রিফিং করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত করেন। লাশ পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

আদালত ও পুলিশ সূত্র মতে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মৃত রবকুল মন্ডলের মেজো ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন গ্রামের বাদল সর্দ্দারের বাড়িতে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় চরমপন্থী কুপিয়ে হত্যা করে।

ওই দিনই নিহতের ভাই মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় ২১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির দুই আঞ্চলিক নেতা দুর্লভপুরের মৃত মুরাদ আলীর ছেলে আব্দুল মোকিম ও একই গ্রামের মৃত আকছেদ আলীর ছেলে গোলাম রসুলসহ ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুর্লভপুরের মৃত কুদরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে হিয়াসহ ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। বাকি ১৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।

মামলার রায় ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আপিলসূত্রে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামি ও যাবজ্জীবন প্রাপ্ত ২ আসামি আমিরুল ইসলাম ও হিয়ার দণ্ডাদেশ মওকুফ করা হয়।

মোকিম ও গোলাম রসুলের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে। বৃহস্পতিবার রাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়।

মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কৃতি খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ভারতের পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েও দিয়ে হা-ডু-ডু খেলেছেন।

নিহত মনোয়ার হেসেনের স্বজনদের প্রতিক্রিয়া: নিহত মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বারের ছেলে কুমারী ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ২ আসামির ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি কয়েকদিন আগেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়।

তবে দিনক্ষণ জানায়নি তারা। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর পর পিতা হত্যার বিচার পাচ্ছি। অবশ্যই খুশি।

মনোয়ারের স্ত্রী চায়না খাতুন বলেন, ‘বছরের পর বছর চোখের জলে বুক ভাসিয়েছি। আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছেন। তার দরবারে হাজার শুকরিয়া। খুনি দু’জনের ফাঁসি কার্যকর হল।

নিহতের ছোটভাই মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বলেন, একসঙ্গে দু’ভাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কত স্মৃতি আছে আমাদের। দু’যুগ পরে হলেও খুনিদের ফাঁসি কার্যকরের সংবাদ শুনে ভালো লাগছে।

লাশ গ্রহণ: থানা সূত্রে জানা যায়, গোলাম রসুলের লাশ গ্রহণ করবেন তার ছেলে তরিকুল ইসলাম। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামে বসবাস করেন।

এছাড়া মোকিমের লাশ গ্রহণ করবেন তার ছেলে মখলেছ আলী। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা গ্রামে বসবাস করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here