মিসরের পিরামিডে রহস্যময় ‘শূন্যস্থান’

0
21

Egypt_Pyramid_Void_Found

প্রাচীন মিসরীয়দের অবিস্মরণীয় এক সৃষ্টির নাম পিরামিড। বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যগুলোর মধ্যে সব থেকে প্রাচীন এবং একমাত্র টিকে থাকা নিদর্শন গিজার পিরামিড। ফারাও শাসক খুফুর শাসনামলে খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০৯ অব্দ থেকে ২৪৮৩ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড। এটি গিজার সব থেকে বড় পিরামিড খুফু পিরামিড -একে গ্রেট পিরামিডও বলা হয়। এর উচ্চতা ১৪৭ মিটার ও নিচের এক একটি বাহু ২০৩ মিটার।

খুফু পিরামিডের দেওয়াল তৈরি হয়েছে বিশাল পাথরের চাঁই দিয়ে। খুফু পিরামিডে মধ্যে এতোদিন তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকার কথা জানতো মানুষ। তবে সম্প্রতি এক গবেষণার ফলাফলে বলা হচ্ছে, তিনটি প্রকোষ্ঠের বাইরেও এখানে একটি ‘রহস্যময় শূন্যস্থানের’ অস্তিত্ব রয়েছে। জাপানি এবং ফরাসি বিজ্ঞানীরা দুই বছরের গবেষণা শেষে সম্প্রতি এক ঘোষণায় এই ‘রহস্যময় শূন্যস্থানের’ কথা জানিয়েছেন। তারা রহস্যময় শূন্যস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাউগ্রাফি নামের একটি পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন।

ফরাসি হেরিটেজ ইনোভেশন এন্ড পিজারভেশন ইনস্টিটিউট, কায়রোর ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মিসরের পুরাতত্ত্ব বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পিরামিড স্ক্যান গবেষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রকে কাজে লাগিয়েছেন। পিরামিডের উপর থেকে মহাজাগতিক রশ্মি (কসমিস রে) পিরামিডে প্রবেশ করিয়ে তারা রহস্যময় এই শূন্যস্থানের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। পিরামিডের মধ্যে মহাজাগতিক রশ্মির গুরুত্বপূর্ণ মিউন কনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ থেকেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।

এক্ষেত্রে মিউন কনার সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডিটেক্টর বা নির্দেশক থেকে দেখা গেছে পিরামিডের মধ্যে যেখানে কোন বড়, স্থায়ী পাথর জাতীয় বস্তু রয়েছে সেখানে বেশি সংখ্যক মিউন কণা শোষিত হয়েছে। অন্যদিকে যেসব জায়গা ফাঁপা সেখানে মিউন কণা তুলনামূলকভাবে কম শোষিত হয়েছে। এই পরীক্ষা থেকে খুফু পিরামিডের তিনটি প্রকোষ্ঠ ছাড়াও চতুর্থ একটি শূন্যস্থানের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। একাধিক গবেষক দল এ সংক্রান্ত পরীক্ষা চালিয়েছেন যার প্রত্যেকটির ফলাফলে ‘শূন্যস্থানের’ অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। বিবিসি ও সিএনএন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here