ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে ২৮ শিশুর মৃত্যু ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

0
26

অযোগ্যতা ও অদক্ষতার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ও সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করেন স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান। এরপর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের ডিভিশন বেঞ্চ বরখাস্তের বিষয়টি অ্যাফিডেভিট আকারে আদালতে দাখিল করতে সচিবের আইনজীবীকে বলা হয়। আদালত বলেন হলফনামা দাখিলের পরই আদেশ দেয়া হবে।

ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে ২৮ শিশুর মৃত্যু ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে ২৮ শিশুর মৃত্যু ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

এর আগে ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে ২৮ শিশু মৃত্যুর মামলায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৮ আগস্ট স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খানকে তলব করে হাইকোর্ট। ওই তলব আদেশে বুধবার তিনি হাইকোর্টে হাজির হন। তার পক্ষে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন শুনানি করেন। রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার শুনানি করেন।
মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে এখন পর্যন্ত ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র সতর্ক করা হয়েছে। ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আগে সতর্ক তারপর বরখাস্ত। সতর্ক না করলে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। আদালত বলেন, শুধুমাত্র সতর্ক করেছেন। এই সতর্ক করতে এতদিন সময় লাগল। কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তো কারণ দর্শানোর নোটিশ ও তদন্ত রয়েছে। শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দাখিল এবং সচিবকে পুনরায় হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে রিড ফার্মার বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ পানে কিডনি নষ্ট হয়ে ২৮ শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা তখন সারা দেশে ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়। কারখানায় ভেজাল ও নিম্নমানের প্যারাসিটামল তৈরির অভিযোগ এনে ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। এই মামলায় রিড ফার্মার মালিকসহ ৫ জনকে খালাস দেয় আদালত। রায়ে বলা হয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওই দু’জন কর্মকর্তার অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণেই রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here