ভাষা ও ক্যারিয়ার গঠন ।

0
45
জাপানিজ ভাষা

লেখক:- মো. জহিরুল ইসলাম । বিভাগীয় প্রধান, গ্লোবাল আইটি এন্ড ল্যাংঙ্গুয়েজ ইন্সটিটিউট। Email:[email protected]

জাপানসহ বিশ্বের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ জাপানি ভাষায় কথা বলে। জাপানি ভাষা লিখতে ৩ ধরনের লিপির ব্যবহার হয়: হিরাগানা , কাতাকানা ও কাঞ্জি। জাপানি যখন রোমান হরফে লেখা থাকে তাকে “রোমাজি” বলা হয়।

ভাষাবিজ্ঞানীরা জাপানি ভাষার সাথে অন্যান্য ভাষা ও ভাষাপরিবারের বংশগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য বহুবার চেষ্টা করেছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্বটি অনুসারে কোরীয় ভাষার সাথে জাপানি ভাষা আলতায়ীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। অর্থাৎ জাপানি ও কোরীয় ভাষা অত্যন্ত দূরবর্তীভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্কিত।

জাপানি ভাষা জাপানের সরকারী ভাষা। এখানকার সমস্ত শিক্ষা, গণমাধ্যম, ব্যবসা ও সরকারী কাজ কর্ম জাপানি ভাষাতে সম্পন্ন হয়।

জাপান তুলনামূলকভাবে একটি ছোট দেশ হলেও এখানে বিস্ময়করীভাবে বহু সংখ্যক উপভাষা প্রচলিত, যেগুলি উচ্চারণ, ব্যাকরণ এবং শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে একে অপরের চেয়ে আলাদা। অনেকগুলিই পরস্পর বোধগম্য নয়। জাপানি উপভাষাগুলিকে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  • পূর্ব জাপানি: এর মধ্যে পড়েছে হোক্কাইদৌ, তৌহোকু, কান্তৌ, তৌক্যৌ, নাগোয়া, মিকাওয়া, ইত্যাদি।
  • পশ্চিম জাপানি:হোকুরিকু, তোয়ামা, ফুকুই, কান্সাই, ঔসাকা, কৌবে, ক্যৌতো, চুউগোকু, হৌনিচি, মিয়াযাকি, হাকাতা, কাগোশিমা, ইত্যাদি।

জাপানি ভাষার দুইটি রূপ আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত। হিয়োজুংগো বা আদর্শ জাপানি এবং কিয়োতসুগো বা সাধারণ ভাষা। স্কুল কলেজে, টেলিভিশনে ও সরকারী যোগাযোগের ক্ষেত্রে হিয়োজুংগো ব্যবহার করা হয়। আদর্শ জাপানি ভাষাটি আবার লিখিত বুংগো এবং মৌখিক কোগো ভাষায় ভাগ করা যায়। মৌখিক ও লিখিত রূপের মধ্যে ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডারের পার্থক্য আছে। ১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত বুংগো জাপানি ভাষার লিখিত রূপ ছিল। তবে বর্তমানে কোগো-ই লিখিত ভাষা হিসেবে বেশি প্রচলিত। ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং আইনজীবীদের কাছে বুংগো এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানি ভাষার গুরুত্ব:

যদি কেউ বিদেশে পড়াশুনা করতে চান, জাপান হতে পারে একটি আকর্ষনীয় গন্তব্য।পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বিদেশে পড়াশুনা করছে। এর মধ্যে ১৩৮০৭৫ (১ মে, ২০১২ অনুযায়ী) জন ছাত্রছাত্রী জাপানে পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ বৈদেশিক ছাত্রছাত্রীদের প্রায় ৯.৫ শতাংশই জাপানে অধ্যয়নরত জাপানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের এই ব্যাপক চাহিদার কারণ হচ্ছে জাপানে ছাত্রছাত্রীরা যুগোপযোগী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারে যা ২য় বিশ্বযুদ্ধোত্তর জাপানের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নতির মুল হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছে। ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে মেডিসিন, সাহিত্য থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রশাসন যেকোন বিষয়েই জাপানী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনার বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে। তাই অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী জাপানে পড়াশুনা করতে যাচ্ছে। যদি কোন ছাত্র/ছাত্রী উচ্চমাধ্যমিক পাস করে থাকেন তবে জাপানিজ ভাষার উপর অন্তত এক বছর মেয়াদী কোর্স করে জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজগুলোতে ব্যাচেলর অনার্সে ভর্তি হতে পারবেন, এবং যদি ব্যাচেলর অনার্স পাস করেন তবে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পাবেন।অবশ্যই স্কলারশিপসহ, জাপানিজ ভাষা শেখা থাকলে স্কলারশিপ পাওয়াটা তেমন কঠিন কিছু না।উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো অনেক স্কলারশিপ আছে জাপানে, মনবুকাগাকুশো স্কলারশিপ,এশিয়ান ইয়ুথ ফেলোশিপ,এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক স্কলারশিপ,হিউম্যান রিসোর্স স্কলারশিপ ইত্যাদি।তাছাড়া গ্রাজুয়েট আর রিসার্চ লেভেলে প্রত্যেকটা সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই আর্থিক সহায়তা ও স্কলারশিপ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ থেকে যারা জাপানে পড়তে যায় তাদের অধিকাংশই কোন না কোন স্কলারশিপ বা ফান্ড নিয়েই পড়তে যায়।এই সুযোগটি আপনিও পেতে পারেন সহজেই যদি ভাষার উপর দক্ষতা থাকে।

জেএলপিটি বা জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি টেস্টে অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করলে জাপান সরকারের পক্ষ থেকেই পড়াশুনার জন্য আমন্ত্রন পেয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তাই দেশের বাইরে স্কলারশিপসহ পড়াশুনা করতে চাইলে জাপানিজ ভাষা নিশ্চিন্তে বেঁছে নিতে পারেন। জাপানের মত দ্বিতীয় কোন দেশ নেই যারা বিদেশি ছাত্রদের পড়াশুনার জন্য এমন সুযোগ দিয়ে থাকে।

পড়াশুনার পাশাপাশি খন্ডকালীন কাজ কিংবা পড়াশুনা শেষে স্থায়ীভাবে বসাবসের জন্যও জাপান অনেক সুযোগ করে

‘বাংলাদেশের যেসব দেশে যোগাযোগ বেশি, সেগুলোর প্রায়গুলোতেই ইংরেজি প্রচলিত। তবুও  চাকরি বা শিক্ষার জন্য যাঁরা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য সেই সেই দেশের ভাষা জানা খুবই প্রয়োজন।’ তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জাপানের গুরুত্ব অপরিসীম। এভাবেই জাপানি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে বললেন গ্লোবাল–এর ম্যানেজার জনাব নাজমুল হক।‘উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অভিবাসন— যে উদ্দেশ্যেই ভাষা শিখুন না কেন, সেই ভাষা শেখার জন্য গ্রহণযোগ্য ভাষা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিখুন। নতুবা সময় ও পরিশ্রম আপনার কাঙ্ক্ষিত দেশে গিয়ে কোনো কাজে না আসতে পারে।

জাপানে পড়ার সুবিধাসমূহ :

জাপান অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ। পড়ালেখার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করার সুবিধা জাপানকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। পাশাপাশি রয়েছে ল্যাংগুয়েজ কোর্স করে একাডেমিক বা ভোকেশনাল কোর্সে স্কলারশিপ বা ফি-ওয়েভার পাওয়ার সুবিধা। পড়ালেখা শেষে বৈধভাবে কাজ করার ও থাকার সুযোগও মিলবে। বৈধভাবে ১০ বছর থাকলে রয়েছে জাপানে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ।তাই বাংলাদেশ থেকে জাপানিজ ভাষা শিখে গেলে ওখানকার পড়াশুনা সহ যাবতীয় কাজে সুবিদা হয়।গ্লোবালের জাপানি ভাষার সিনিয়র শিক্ষক আহসান হাবিব শুভ বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে জাপান আজ অনেক উন্নত রাষ্ট্র। অনেকেই এখন জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী। তাঁদের জন্য জাপানি ভাষা জানা খুব সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষার ওপর জাপানের মনভো কাজাকোসো বৃত্তি রয়েছে। এ ছাড়া জাপান সরকার, জাপান ফাউন্ডেশন বৃত্তি, জাপান ল্যাংগুয়েজ স্কলারশিপ ফাউন্ডেশন জাপানে উচ্চশিক্ষার ওপর মেধা অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান করে থাকে। জাপানি ভাষা জানা থাকলে শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, চাকরির ক্ষেত্রেও সুযোগ অবারিত হতে পারে।ব্যবসা-বণিজ্য, চাকরি ও অভিবাসনের জন্যও এই ভাষা জানা থাকলে কাজে লাগবে।জাপানি ভাষা জানা আপনার বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে চাকরি, উচ্চশিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে।

 জাপানে পড়ালেখা ও ক্যারিয়ার :

  উন্নত দেশসমূহের মধ্যে জাপান বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতের জন্যই বিশেষভাবে পরিচিত। তাদের কর্মস্পৃহা নিয়েও কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই। তাদের অসামান্য গুণাবলীর কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়া জাপান এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র।

জাপানের শিক্ষার মানও অত্যন্ত উন্নত এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। পড়ালেখা চলাকালীন সপ্তহে ২৮ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে জাপানে। ছুটির সময় বেশি কাজ করতেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কাজের সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি আয়ের পরিমাণও আকর্ষণীয়।জাপানী ভাষা জানা এবং জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট থাকলে বৈধভাবে চাকরি করা যায় এবং পরে নিয়মিতও হওয়া যায়।

যারা পড়ালেখা করতে দেশের বাইরে যেতে চান, তাদের জন্য Japanese Language Course নিয়ে জাপান যাওয়া খুবই ভালো ও নিশ্চিত একটি সুযোগ হতে পারে। জাপানী ভিসা পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া খুব একটা সহজ নয়। সেক্ষেত্রে প্রথমে জাপানে গিয়ে পড়ে এসব দেশে যাওয়াটা সহজ হয়ে যায়।

ভর্তি যোগ্যতা :

জাপানে পড়ালেখা করতে যেতে চাইলে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্য বয়স শিথিলযোগ্য। কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক পাশ হতে হবে। আর এগুলোর সাথে লাগবে শিক্ষাব্যয় বহনের সক্ষম ঘনিষ্ট অভিভাবক এবং আয়ের স্বপক্ষে ব্যাংক ও পোশা সম্পর্কিত কাগজপত্র।

ভিসার জন্য জাপান দূতাবাসে যাওয়ার আগে গ্লোবালে যা পড়ানো হবে :অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা ১৬০ ঘণ্টা জাপানী ভাষা শিক্ষা (কাতাকানা ও হিরাগানা); জাপানীদের শিষ্টাচার; জাপানে প্রথম প্রবেশের সময় একান্ত প্রয়োজনীয় কথাবার্তা; জাপান দূতাবাসে ভিসা সাক্ষাত্কারের জন্য প্রস্তুতি।

জাপানে পড়ালেখা করতে যেতে চাইলে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্য বয়স শিথিলযোগ্য। কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক পাশ হতে হবে। আর এগুলোর সাথে লাগবে শিক্ষাব্যয় বহনের সক্ষম ঘনিষ্ট অভিভাবক এবং আয়ের স্বপক্ষে ব্যাংক ও পোশা সম্পর্কিত কাগজপত্র।

অন্যান্য তথ্য :

জাপানে জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবরে ভর্তি হতে হয়। শুরুতে ছাত্রছাত্রীর একাডেমিক কাগজপত্র জাপানিজ স্কুলে পাঠাতে হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই বাচাই করে জাপান শিক্ষামন্ত্রনালয় জমা দেয় ।শিক্ষামন্ত্রনালয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে এলিজিবিলিটি প্রদান করে।ভিসা হলে টাইম অ্যান্ড ট্রেডই শিক্ষার্থীকে সঙ্গে  নিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ১ বছরের টিউশন ফি এবং ১ বছরের ডরমিটারি চার্জ জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরাবর পাঠাবে। কোনো কোনো কলেজে ছয় মাসের ফি পাঠলেও চলে ।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here