ভারতে ধর্ষণের মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত সহিংসতায় অন্তত ২৮ জন নিহত

0
33

রায় ঘোষণা হতেই উত্তাল ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা। সহিংসতায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে।

ভারতে ধর্ষণের মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত সহিংসতায় অন্তত ২৮ জন নিহত

ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহকে বিশেষ সিবিআই আদালত দোষী সাব্যস্ত করতেই আজ শুক্রবার আদালত চত্বরের বাইরে সহিংসতা শুরু হয়।

লাঠি, বাঁশ, ইট-পাথর নিয়ে পুলিশের উপর হামলা হয়েছে। লাঠি চালিয়ে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে পাঁচকুলায় পুলিশ গুলি চালিয়েছে। অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। জখম হয়েছে অন্তত ২০০ জন।

তবে সহিংসতা শুধু পাঁচকুলায় সীমাবদ্ধ নেই।

পাঞ্জাবের দু’টি রেলওয়ে স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে রাম রহিমের অনুসাররীরা। দুই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় থানা এবং সরকারি দফতরে আগুন লাগানো শুরু হয়েছে। পাঁচকুলায় ইতোমধ্যেই কার্ফু জারি করা হয়েছে। পাঞ্জাবের ভাতিন্ডা, মনসা, মুকতাসর, ফিরোজপুরেও কার্ফু জারি করা হয়েছে।

ভারতে ধর্ষণের মামলায় ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত সহিংসতায় অন্তত ২৮ জন নিহত

পাঁচকুলার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।

আদালত চত্বরের বাইরে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে। দূর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে আদালত চত্বরের আকাশে। ইতোমধ্যেই অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের সাথে ডেরা অনুসারীদের সংঘর্ষে অন্তত ২০০ জন জখম হয়েছে। পাঁচকুলার হাসপাতালগুলিতে রোগীদের জায়গা দেয়া যাচ্ছে না বলে খবর আসছে। শহরে রক্তের অভাব দেখা দিয়েছে।

সহিংসতা শুরু হতেই পাঁচকুলায় কার্ফু জারি করেছিল প্রশাসন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। পুলিশের সাথে প্রবল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন ডেরা অনুসারীরা। লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাই পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের গুলিতেই ডেরা অনুসারীদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রে এখনও সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতর যেখানে, হরিয়ানার সেই সিরসাতেও সহিংসতা প্রবল আকার নিয়েছে বলে খবর। পুলিশের সাথে সেখানেও সংঘর্ষ হয়েছে ডেরা অনুসারীদের। রাম রহিমের ভক্তদের হাতে সিরসায় আক্রান্ত হয়েছে সংবাদমাধ্যমও। তবে শুধু সিরসাতে নয়, পাঁচকুলাতেও সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে। মিডিয়ার একাধিক গাড়ি এবং ওবি ভ্যান নষ্ট করে দিয়েছে হামলাকারীরা।

পাঁচকুলায় থানা এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে রাম রহিমের ভক্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে গোটা শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে বহু গাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ছয় প্লাটুন সেনা পাঠানো হয়েছে পাঁচকুলায়।

পরিস্থিতি প্রবল উত্তপ্ত পঞ্জাবেও। ভাতিন্ডা এবং মলোত রেলওয়ে স্টেশনে তাণ্ডবকারীরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লিতেও। রাজধানীর আনন্দ বিহার রেলওয়ে স্টেশনে একটি ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে বলে খবর। উত্তর-পূর্ব দিল্লির লোনি চকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে একটি বাসও। দিল্লি পুলিশ সূত্র এ খবর দিয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ফোনে কথা বলেছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহ এবং মনোহরলাল খট্টরের সাথে।

সহিংসতা রুখতে পাঞ্জাবে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে রাজনাথকে জানিয়েছেন অমরেন্দ্র।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরও জানিয়েছিলেন যে, ধর্ষণের মামলায় রায় যা-ই হোক, পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যাবে না, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে

কিন্তু শুক্রবার বিশেষ সিবিআই আদালত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করতেই গোটা হরিয়ানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে স্পষ্ট যে খট্টরের প্রতিশ্রুতি ভিত্তিহীন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ডেরা সমর্থকদেরকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। রাম রহিম নিজেও শান্তিই চাইছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। দুই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা এখন তাণ্ডবের গ্রাসে। হরিয়ানা সীমান্ত সিল করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির পুলিশ। কিন্তু তা সত্ত্বেও দিল্লিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া রোখা যায়নি। উত্তরাখণ্ড থেকেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here