ভারতের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

0
32

ভারতের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের ২৩১ রানের সে জুটিও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ হারের ক্ষতে মলম লাগানোর ম্যাচে ৩৩৪ রান করেছে সফরকারীরা। ৩৩৪ রান কম নয়। কিন্তু এই ভারতের কাছে বেশিও নয় হয়তো! গত ম্যাচের টাটকা স্মৃতিই তো আছে।

ভারতের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

 

৩৫ ওভার শেষে ১ উইকেটে ২৩১ রান যে দলের, সেই গর্জন অনুযায়ী রানের মেঘ ততটা তো বর্ষাল না! অথচ কী শুরুটাই না পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ডাবল সেঞ্চুরি এবারই প্রথম নয়। এর আগেও পাঁচবার এ কাজ করেছেন দশজন ওপেনার। সবার আগে এ কীর্তিটা অস্ট্রেলিয়ানদেরই। ১৯৮৬ সালে ডেভিড বুন ও জিওফ মার্শ ওপেনিংয়ে ২১২ রান তুলেছিলেন। ৩১ বছর পর জয়পুরের সে ম্যাচের স্মৃতিই যেন ফিরে এল আজ বেঙ্গালুরুতে। প্রথমে ওপেনিংয়ে ডাবল সেঞ্চুরিতে, পরে আচমকা আসা ব্যাটিং ধসে। সেবার দুই ওপেনারের ব্যাটিং বীরত্বের পরও ২৫০ রানের থেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। পার্থক্য হলো, আজ অস্ট্রেলিয়া ৩৩৪ রান করেছে। যেটা ৪০০ ছুঁলেও বিস্ময় জাগত না।
এ কারণেই জয়পুরের সে ম্যাচের স্মৃতি ফিরে আসছে আবার। যেদিন দুই ওপেনার বুন-মার্শকে ম্যাচ শেষে পরাজিত দলে থাকতে হয়েছিল। আজও ওয়ার্নার-ফিঞ্চের ভাগ্যে এমন কিছু অপেক্ষা করছে না তো!
ভারতের বিপক্ষে উদ্বোধনে ডাবল সেঞ্চুরি করা দলের ভাগ্যে সাধারণত পরাজয়ই লেখা থাকে। হার্শেল গিবস ও গ্যারি কারস্টেনের ২৩৫ রানের পরও ২০০০ সালে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতেছিল স্বাগতিক ভারত। আর ২০১২ এশিয়া কাপে হাফিজ-জামশেদের ২২৪ রানে ৩২৯ রানের পাহাড় গড়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু বিরাট কোহলির অবিশ্বাস্য এক ১৮৩ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আজও অস্ট্রেলিয়ার রানটা তিন শ ত্রিশের ঘরে।
অথচ ম্যাচের ৩৫তম ওভারেও এমন কিছু ভাবা যায়নি। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ঝড় তুলছেন ওয়ার্নার, সেঞ্চুরির অপেক্ষায় তাঁর সঙ্গী ফিঞ্চ। নিজের ১০০তম ওয়ানডেতে ১৪তম সেঞ্চুরি তুলেছেন ওয়ার্নার। ভারতের মূল বোলাররা সব অসহায় দর্শক হয়ে সহ্য করছেন এ দুজনের বেধড়ক পিটুনি। ত্রাতা হয়ে এলেন কেদার যাদব। যাঁর বোলিংয়ের বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব। অনেকটা লাসিথ মালিঙ্গা স্টাইলে বল করেন। কিন্তু সেটা স্লো নাকি অফ স্পিন ক্যাটাগরিতে পড়বে, সেটা বোঝা কঠিন। এই অদ্ভুতুড়ে বিরক্তিকর কিন্তু ভীষণ কার্যকর বোলিংয়েই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চিড় ধরল। ১২৪ রানে আউট হয়ে গেলেন ওয়ার্নার। ১১৯ বলে ১২ চার ও চার ছক্কার ইনিংসটি শেষ হওয়ার পরও বোঝা যায়নি কী ঝড় আসছে অস্ট্রেলিয়ার দিকে।
পরের ওভারেই আরেক যাদবের আঘাত। উমেশের বলে বাজে এক শটে ফিরলেন ফিঞ্চও (৯৪)। শূন্য রানে দুই ওপেনারকে হারাল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ রান পরেই নেই অধিনায়ক স্টিভ স্মিথও (৩)। সিরিজে এর আগেও বেশ কয়েকবার এমনটা দেখা গেছে। শুরুটা ভালো করে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দায় মেটাতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। চতুর্থ উইকেটে ট্রাভিস হেড ও পিটার হ্যান্ডসকম্বের ৫৮ বলে ৬৩ রানই তিন শ ছাড়ানো নিশ্চিত করেছে। আর হ্যান্ডসকম্বের ইনিংস (৩০ বলে ৪৩) সেটাকে ৩২৫-এর কোটা পার করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাও কি যথেষ্ট হবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here