বোমাটি বিস্ফোরিত হলে এক কিলোমিটার এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হত!!

0
38

বোমাটি বিস্ফোরিত হলে

১৭ বছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে জনসভা ছিল। কলেজ প্রাঙ্গণে ওই সভার প্যান্ডেল তৈরির সময় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে পুরো এক কিলোমিটার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হত। নিহত হত শত শত মানুষ।

রোববার ঢাকার ২নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক এসব কথা বলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধারের পর সেনাবাহিনী একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেন এটি বিস্ফোরিত হলে পুরো এক কিলোমিটার ধ্বংস্তূপে পরিণত হত। আর নিহত হত শত শত মানুষ। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, কিছু ইসলামী উগ্রপন্থী লোক আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে এ পরিকল্পনা করেছেন। তারা মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করলে এই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এই পরিকল্পনার মূল হোতা ছিলেন হুজির নেতা মুফতি হান্নান। আর তাকে সহযোগিতা করেছেন অন্য আসামিরা।

রায়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলায় হুজির ১০ জনের দণ্ডের বিষয়ে আদালত আদেশে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গুলি চালিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলেছেন। এছাড়া চারজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

অপরদিকে বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৯ জনেকে দেয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ। চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় তাদের খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আ. রউফ ওরফে মুফতি আ. রউফ ওরফে আ. রাজ্জাক ওরফে আবু ওমর।

১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান, আনিসুল ইসলাম, মহিবুল্লাহ ও সারোয়ার।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- খন্দকার মো. কালাম উদ্দিন শাকের, আরিফ হাসান সুমন, মুন্সি ইব্রাহিম, শাহনেওয়াজ, লোকমান, এনামুল হক, মিজানুর রহমান, মাওলানা সাব্বির, মাহমুদ আজহার ও আবুল হোসেন।

বিস্ফোরক আইনের মামলায় ২০ বছর কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নয় আসামি হলেন ইউসুফ ওরফে মোসহাব ওরফে আবু মুসা (পলাতক), আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস, মেহদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ, রাশদ ড্রাইভার ওরফে মো. আবুল কালাম ওরফে শিমন খান, শাহনেওয়াজ ওরফে মো.আজিজুল হক ও শেখ মো. এনামুল হক (পলাতক)।

এ মামলায় খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হাসমত আলী কাজী, আবুল হোসেন খোকন, মুন্সী ইব্রাহিম ও লোকমান।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ২২ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সফর উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় একটি শক্তিশালী বোমা পাওয়া যায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২৩ জুলাই ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় সেদিনই কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন।

অন্যদিকে ২০০০ সালের ২৫ জুলাই গোপালগঞ্জের বিসিক এলাকায় মুফতি হান্নানের সোনারবাংলা নামে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামক সাবান কারখানায় তল্লাশি করে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনের মামলা করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here