বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও অত্যাধুনিক মানব বর্জ্য শোধনাগার এখন খুলনায়।

0
17

Human waste treatment plant

নগরীর উপকণ্ঠে বটিয়াঘাটা উপজেলার রাজবাঁধে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে ১ দশমিক ৩ একর জমির ওপর আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির সমন্বয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এই পরিশোধন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে কলাবতি ফুলের বাগিচা। লাল আর হলুদের সমারোহ চারদিক। দেখে বোঝার উপায় নেই নগরীর হাজার হাজার টন বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। কোনোরূপ দুর্গন্ধও নেই চারপাশে।

বেশিদিন আগের কথা নয়। শহরতলীর এ প্রাঙ্গণে ছিল কেসিসি’র একটি ট্রেন্সিং গ্রাউন্ড। ময়লা ফেলার কারণে সেখানে ছিল পুতি দুর্গন্ধময় পরিবেশ, যা এলাকাবাসীর দুর্ভোগেরও কারণ হয়েছিল। আজ সেখানে বিরাজ করছে সুন্দর সুবজ পরিবেশ। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে মানব বর্জ্য শোধনাগারটি গড়ে তোলা হয়েছে। নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসএনভি) তত্ত্বাবধানে বর্জ্য শোধনাগারটি নির্মিত হয়েছে। সহযোগিতা করেছে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার মানব বর্জ্য পরিশোধনের সুযোগ রয়েছে এ কেন্দ্রে । বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি স্থানে যে মানব বর্জ্য উৎপাদিত হয় তা ভ্যাকুটাগের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে আনা হয় শোধনাগারে, ফেলা হয় নির্দিষ্ট স্থানে। সেখানে পাইপের মাধ্যমে ভাগ হয়ে সমস্ত মানব বর্জ্য কয়েকটি বেডে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বেড ৩৬ হাজার লিটার বর্জ্য ধারণ করতে পারে। পরে আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য পরিশোধন করা হয়।

এদিকে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এখন মানব বর্জ্য ব্যবহার করে জৈব সার, বায়ো গ্যাস এবং সৌর বিদ্যুত্ উত্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মানববর্জ্য শোধনাগারের পার্শ্ববর্তী স্থানে রাজবাঁধের ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে বর্জ্য দ্বারা কম্পোস্ট সার উত্পাদন করা হচ্ছে। কেসিসি’র সহযোগিতায় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘রাজটিক’ কয়েক বছর যাবত্ কম্পোস্ট উত্পাদন করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাঁধে মানববর্জ্য শোধনাগার পরিদর্শনে যান গণমাধ্যমের কর্মীরা। এ সময় সিটি মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও এর সুফল সম্পর্কে তুলে ধরেন। এ সময় কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ, কঞ্জারভেন্সি অফিসার মো. আনিসুর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা সরদার আবু তাহের, এসএনভি’র প্রকৌশল অ্যাডভাইজার সহিদুল ইসলাম, বিসিসি অ্যাডভাইজার এসএএম হুসাইন, প্রোগ্রাম অফিসার সাকের আহমেদসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেন, খুলনা মহানগরী এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই মানববর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নগরবাসীর কল্যাণে আরো নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here