বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে কোরবানির মাংস ও খাদ্য বিতরণ

0
19

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে কোরবানির মাংস ও খাদ্য বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘জবান’ একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম। ফেসবুকে তারা একটি ইভেন্ট তৈরি করেছে। ঢাকা থেকে ঈদের দিনে তারা কোরবানির মাংস ও ত্রাণ সংগ্রহ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে কোরবানির মাংস ও খাদ্য বিতরণ

ফেসবুকে জবান লিখেছে,

কুরবানীর ঈদের দিনে জবানের স্বেচ্ছাসেবক টিমের পক্ষ থেকে একটি সময়োপযোগি উদ্যোগ নিয়েছে।

আপনারা হয়তো অনেকে খেয়াল করেছেন, ঢাকাতে অনেক বেশি কুরবানী হয়। দেখা গেছে একটি বাড়ির প্রতিটি ফ্লাট থেকেই কুরবানী থাকে। কিন্তু দেশের অনেক গ্রামে মানুষের তুলনায় কুরবানী হয় অতি সামান্য। ফলে কুরবানীর ঈদে কিছু লোক মাংস সংগ্রহের জন্য ঢাকা শহরে আসেন। এদের কেউ কেউ আবার সেই মাংস বিক্রিও করেন। তাছাড়া এবার বন্যা হওয়াতে সাধারণ মানুষের ঈদ যে খুব আনন্দে কাটবে না তা পরিস্কার। তাই আমরা ঠিক করেছি ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর চর এলাকার ময়মনসিংহ ও জামালপুরের দরিদ্র এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে কুরবানীর মাংস ও খাদ্য বিতরণ করব।

ঈদের দিনেই তাঁদের হাতে যাই পারি তুলে দিব। এই উদ্যোগে আপনাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ আশা করছি।

ঢাকা শহরের যে কোন স্থান থেকে আপনি আপনার কুরবানীর মাংসের গরীবের অংশ বা পুরো কুরবানী আমাদের কাছে পৌছাতে পারবেন। আমাদের ভলেনটিয়ার টিম তা সংগ্রহ করবে। এবং মিরপুর ১০ নাম্বারে আমাদের একটি বরফজাত পিকাপ ভ্যান থাকবে কেউ চাইলে এখানে এসেও দিয়ে যেতে পারবেন। নিচের নাম্বারে কল করে আপনার সাহায্য নিশ্চিত করুন। আর ত্রাণের জন্য আপনার অর্থ সহায়তার পাঠাতে বিকাশ নাম্বার দেওয়া হল।

মাংসের সাথে চাল, ডাল ও দরকারি ঔষধ ও মাংসের মসলা প্রতিটি পরিবারের হাতে দেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা থেকে জবান টিমের সদস্যদের তৈরি করা দরিদ্র পরিবারের তালিকা ধরে আমরা ঘরে ঘরে আপনাদের সহায়তা পৌছে দিব।

এই পোষ্টের নিচে কমেন্ট করে আপনি আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার, এলাকা জানিয়ে দিন। আমাদের ৮ সদস্যের টিম থেকে যোগাযোগ করা হবে। আপনার এলাকা যার দায়িত্বে আছে সে আপনার অংশটি সংগ্রহ করে আনবে।

একটি বিতর্কও উঠেছে। অনেকে মনে করেন কুরবানী না দিয়ে বন্যার্তদের সাহয্য করলেই তো হয়! এটা কোন কথা না। দুইটার হক দুই রকম। অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। তাই বলে কুরবানীর হক উপেক্ষা করার সুযোগ নাই। আমাদের এই উদ্যোগে কুরবানীর মাংস যেহেতু ঈদের দিনেই প্রকৃত অভাবী ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে -এর ফলে ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেয়া সম্ভব হবে। দুইটাই একই সাথে পালন করা সম্ভব হবে। এবং আপনাদের ত্রাণ সহায়তা যুক্ত হয়ে বানভাসিদের জন্য এটা খুব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হবে। জবানের যে ভাইরা ঈদের দিনে পরিবার ও নিজেদের কাজ ফেলে এই মহান উদ্যোগে সমাবেত হয়েছেন আমাদের দায়িত্ব হল তাদের উদ্যোগকে সফল করা। সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগভাগি হোক, হাসি ফুটে উঠুক দুঃখি ঠোটেও। এই পবিত্র দৃশ্যই আমাদের কাম্য। আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতাই পারে এই উদ্যোগকে সফল করতে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here