ফোর-জি চালু নিয়ে যা বললেন কর্মকর্তারা

0
22

4g mobile network

দেশে চতুর্থ প্রজন্মের এ সেবা চালু করতে অপারেটরদের ২৪টি দাবির মধ্যে ২২টিরই সমাধান হয়ে গেছে- সরকারের এমন দাবির পরও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে সেবাটি চালু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফোর-জি চালু নিয়ে সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সাথে টেলিকম অপারেটর নির্বাহীদের সর্বশেষ বৈঠক এক রকম সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে টেলিকম অপারেটরদের দরকষাকষিতে এ বছরের মধ্যে ফোর-জি চালু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিটিআরসি ও অপারেটর সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে দেশে থ্রি-জি সেবা চালু করতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অপারেটরগুলো। এখন পর্যন্ত লাভ তো দূরে থাক সেই বিনিয়োগের মধ্যে মাত্র ছয় হাজার কোটি টাকা মূলধন ফেরত পেয়েছে তারা। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে আবার ফোর-জি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। থ্রি-জি সেবা চালু করে মোবাইল অপারেটরগুলো যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেজন্য ২৪টি বিষয়ে দাবি তুলেছে অপারেটররা। এসব ইস্যুর সমাধান না করে আগের পথে হাঁটলে টেলিযোগাযোগ খাত একই ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। সেজন্য ফোর-জি নিলামের আগেই বিদ্যমান সমস্যার সমাধান চাইছে তারা।

জানা গেছে, মোবাইল অপারেটররা ১২ বছর ভয়েস কলের রেকর্ড সংরণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (সিএসআর) খরচ করার আগে অনুমতি নেয়া, উচ্চ তরঙ্গমূল্য, প্রযুক্তি নিরপেতা, কনটেন্ট ফিল্টারিং, লোকেশন পিন পয়েন্ট ইত্যাদি বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা বারবার জানিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে।

অন্য অপারেটরের এক কর্মকর্তা বলেন, ১২ বছর ডাটা সংরক্ষণে করা আমাদের জন্য কঠিন। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরাও তাদের কাজের সুবিধার জন্য এক বছর ডাটা সংরক্ষণ করার পক্ষে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, তাদের অডিটের স্বার্থে ১২ বছর সংরক্ষণ করা জরুরি। বিষয়টি আমাদের জন্য কঠিন। আর সিএসআর ফান্ড ব্যয়ের ব্যাপারে তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টাও অনেকটা নমনীয়। তবে বাকি বিষয়গুলো সমাধান না হলে এ বছরের বাকি দুই মাসের মধ্যে তরঙ্গ নিলাম করে ফোর-জি চালু সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ৬৫ শতাংশ এরিয়া থ্রি-জি কভারেজের মধ্যে আছে। তার মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ থ্রি-জি সেট ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে ফোর-জি এলে তার কতটুকু ব্যবহার হবে জানি না। এ ছাড়া থ্রি-জিতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেও তার মাত্র ছয় হাজার কোটি টাকা উঠেছে। তবুও সরকারের ফোর-জি চালুর সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এটির সুরাহা না হওয়ায় আমাদের অনেক সিদ্ধান্ত আটকে আছে। আমরা চাই সরকার টেলিকম শিল্পের স্বার্থে দ্রুত এসব বিষয় সমাধান করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here