ফেসবুকে ছবি দেয়ায় যুবককে জুতাপেটা

0
108

Shoepeta

কুষ্টিয়ার খোকসায় এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা (এডিক করা) ছবি ফেসবুকে আপলোডের অভিযোগে এক যুবককে জরিমানা ও জুতাপেটা করেছে গ্রাম্য রাজনৈতিক নেতারা। অভিযোগ উঠেছে সালিশে উপস্থিত থানা পুলিশের এক এসআই জরিমানার টাকা নিয়ে গেছেন। এদিকে আতঙ্কে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার শিমুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলাকাটা ছবি ফেসবুকে আপলোড করে শিমুলিয়া ইউনিয়নের মালিগ্রামের তফেলের ছেলে রাজু। তার বন্ধু তালিকায় থাকা শিমুলিয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে নান্নু ছবিগুলো শেয়ার করে। মুহূর্তের মধ্যে ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত রোববার ওই ছাত্রীর ভ্যানচালক বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। এটির তদন্ত ভার দেয়া হয় থানার উপর। শেষ অবধি বিষয়টি গ্রাম্য টাউট শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাদের হাতে সালিশে নিষ্পত্তির দায়িত্ব বর্তায়। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ও বুধবার ক্ষমতাসীন দলের পদবঞ্চিত নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আনছার আলীর বাড়িতে পৃথক সালিশি বৈঠক বসে। থানা পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলাম উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশে ডাকা হয় স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের লোকদের। গ্রামের কয়েকশ মানুষের সামনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সাবেক চেয়ারম্যান আনছার আলী, বর্তমান মেম্বার হোসনে আরা বিউটিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের সালিশি বোর্ড গঠন করে রাজুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৈঠক স্থলে রাজুকে জুতাপেটা করা হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। ফেসবুকে স্কুলছাত্রীর ছবি ভাইরাল হওয়ার ঘটনা নিয়ে জনসমুখ্যে সালিশি বৈঠকের ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই ছাত্রীর বাবা জানান, তিনি বিচার চেয়েছিলেন কিন্তু বিচারের ভার রাজনৈতিক নেতাদের হাতে চলে আসায় তিনি বিচার পাননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর তিনি একা হয়ে গেছেন। তার সঙ্গে আগে যারা ছিল তারা সবাই টাকার টানে পিছু হটেছে। একদিকে তিনি গরীব অন্য দিকে একা হয়ে যাওয়ায় সুবিচার পাননি। সালিশের পর তিনি মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে আর সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাজুর মা রাজিয়া ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, সালিশের মজলিশে ইন্টারনেটে ছবি দেওয়ার বিষয় প্রমাণ করতে পারেনি। কিন্তু থানায় অভিযোগ হয়েছে বলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সালিশের মজলিশে তারা জরিমানার টাকা পরিশোধও করেছে। সালিশ হয়েছে আগের ঘটনার। ছবি দেওয়ার বিষয়ে না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দারোগা (পুলিশের এসআই) সালিশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন। তবে পুলিশ ২০/২৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। মধ্যস্ততা করেছে পরিষদের মহিলা মেম্বার হোসনে আরা। তবে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে সে সর্ম্পকে তিনি বলতে রাজি হননি।

এদিকে সালিশে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, সালিশের কথা তিনি শুনেছেন। যুবককে জুতাপেটা করা ও টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা বানু বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সালিশের বিষয়টি তিনি অবগত নন। এই অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কোনো বিধান নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here