ফুলের নকশায় হয়ে উঠুন অনন্য

0
30

ফ্যাশন মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। একটা সময় ছিল যখন ফ্যাশনে একচ্ছত্র অধিকার ছিল কেবল মেয়েদেরই। এখন যুগ পাল্টেছে, সেইসঙ্গে পাল্টেছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। এখন নারী-পুরুষ উভয়ই নিজেদের আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী করে সাজাতে পছন্দ করেন। ফ্যাশনের দিক থেকে মানুষ সবসময় পছন্দ করে নতুনত্ব। কতটা নতুনভাবে নিজেকে সাজানো যায়। নিজেকে বাহ্যিকভাবে সবার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়। আসলে ফ্যাশনের নিজস্ব কোনো ভাষা নেই। আপনি ফ্যাশনকে যেভাবে ধারণ করবেন, এটি আপনাকে সেভাবেই ঠিক ফুটিয়ে তুলবে। এক্ষেত্রে পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য সব ঋতুতেই সুতির জয়জয়কার।আগের দিনে বাড়ির মেয়েরা কাজের অবসরে কামিজে কিংবা ওড়নায় বিভিন্ন রকম কারুকাজ করত। হতে পারে তা সুই-সুতার কৌশলী কোনো ফোঁড়, চুমকি-পুঁতি কিংবা লেইসের কারুকাজ। কিন্তু এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পোশাকের কাজের ধরণও বদলেছে। এখন শুধু সুঁইয়ের খোঁচায় সুতার রংয়ে বোনা ফুল, পাখি অথবা বাহারি নকশা নয়, কাপড়ের সৌন্দর্য বর্ধণ করতে শিল্পীর রং তুলির জনপ্রিয়তাও কম নয়। রং আর তুলির স্পর্শে বর্ণিল হয়ে ওঠে পরনের পোশাক।

ফুলের নকশায় হয়ে উঠুন অনন্য

তবে হাতে আঁকা নকশার ক্ষেত্রে শাড়ির মূল আকর্ষণ থাকে আঁচলে। আর কামিজ ও কুর্তার ক্ষেত্রে সামনের অংশ। কামিজ এবং ব্লাউজের ক্ষেত্রে শুধু হাতায় পেইন্ট করা হয়। নতুন সংযোজন হিসেবে আছে হাতা-কাটা কোটি। একেক জন শিল্পী একেকভাবে তাদের সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলেন পোশাককে সুন্দর করে সাজাতে।শাড়িতে ফুলের নকশা

শাড়ি বাঙালি নারীর উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ। পোশাকের আধুনিকতার ক্ষেত্রে যত বৈচিত্র্য আসুন না কেন শাড়ির ঐতিহ্য কিন্তু আজও অটুট রয়েছে। ছয় গজের এই কাপড়ের মধ্যে খেলা করে কতই না নকশার কাব্য, কখনো শিল্পীর তুলি শাড়িতে তার নকশা ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস পায়। যুগ যুগ ধরে শাড়ির নকশা, বুননে চলছে রঙ বেরঙের, নতুনত্ব আর অভিনবত্বের খেলা। বর্তমানে ফুলের নকশায় তৈরি শাড়িগুলোর কদর অনেক বেড়েছে।এক্ষেত্রে শাড়ির নকশায় প্রধান আকর্ষণ দুই রঙের ওপর করা কন্ট্রাস্ট ডিজাইন। কুচিতে এক রঙ থাকছে আর তার সঙ্গে ম্যাচিং করে বিভিন্ন শেড বা কখনো পুরোপুরি কন্ট্রাস্ট রঙে করা হয়েছে আঁচলের অংশ। কখনো হলুদ কুচির সঙ্গে রয়েছে গাঢ় নীলের কম্বিনেশন কখনো লেমন আর হলুদের কন্ট্রাস্ট। থাকছে পাড়, জরি, এম্ব্রয়ডারির জমকালো কারুকাজ পাড় ও আঁচল। কোনো কোনো শাড়ির জমিনে থাকছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট এমনকি টাইডাই। কোনটা আবার পুরোটাই ফুলের প্রিন্ট।ডিজাইনাররা তাদের নিজস্ব বুননের ডিজাইন দিয়ে তৈরি করেছেন শাড়ি। ফুল, কলকা, পানপাতা, ছোট বুটি, বড় বুটি বা কখনো জামদানি নকশা ফুটিয়ে তুলছেন বুননে। কখনো একই রঙে আবার কখনো কন্ট্রাস্ট কালার ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয় বুননের নকশা। এসব শাড়ি বাজারের অন্য শাড়িগুলো থেকে কিন্তু একেবারেই আলাদা। এ কারণে তা ফ্যাশনেও ভিন্নতা আনে।

কামিজে ফুলের সাজ  সিঙ্গেল কামিজে পুঁতি, চুমকি, বোতাম ও লেইসের বাহারি ব্যবহার তরুণীদের নজর কাড়ছে। পাশাপাশি এন্ডি কটন, তাঁত, হাফ সিল্ক, অরগ্যান্ডি, সিল্ক, মসলিন কাপড়ের কামিজেও করা হচ্ছে হাতের কাজ। তরুণীরা ট্র্যাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি এই নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গেও সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন।  শুধু হাতের কাজ নয়, কামিজে ফুলের প্রিন্টেরও কদর বেড়েছে। কখনও সুতা দিয়েই জামায় নানা ফুলের সমাহার ঘটছে।লাল থেকে শুরু করে নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, কমলা, মেজেন্টা সব ক’টা রঙই থাকছে। সালোয়ার-কামিজে জমকালো ভাব আনতে কামিজের কাজগুলো আরও ভারি রাখা হচ্ছে। গলায় উজ্জ্বল রঙের সুতার কাজ থাকছে। কোনো কামিজের সম্পূর্ণ বডিতে আবার কোনোটির নিচের অংশে সুতার মোটা ও ভরাট ডিজাইন, পট্টি ও লেইস ব্যবহার করা হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না পেছনের অংশও। কামিজের হাতায়ও থাকছে ভারি কাজ। সালোয়ার হচ্ছে কামিজের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। ওড়নায় থাকছে হালকা কাজ।বর্তমানে এক রঙা পোশাকের ফ্যাশন বদলে একই পোশাকে কয়েক রঙের ব্যবহার বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই কখনও এক রঙা কামিজের বডিতে একই রঙের কয়েকটি শেডের কাজ করা হয়েছে। আবার কখনও দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের কাজ। কামিজের কাজের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে করা হয়েছে সালোয়ার এবং ওড়নার ডিজাইন। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাধান্য পাচ্ছে ফুলের নকশা। এসব পোশাকে শুধু তরুণীদের দেখতেই সুন্দর লাগে না, বরং তারা হয়ে উঠেন আরও ফ্যাশনেবল এবং অনন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here