প্রেম করে বিয়ে তারপর খুন করল স্ত্রীকে !!!

0
32
sobuj killar
টুম্পা হত্যার ঘটনায় স্বামী সবুজ শেখকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২

তাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ভালই চলছিল। কিন্তু পরিবার সেটা মেনে নিতে চাইনি। পরিবার ঠিক করে টুম্পাকে ফুফাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেবে। এ খবর শুনে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে ফেলে সবুজও। কিন্তু এতেও ভাঙন ধরেনি দু’জনের সম্পর্কে। সবুজের বিয়ের পর টুম্পা পরিবারের অমতেই বিয়ে করে সবুজকে। বিয়ের পর টুম্পার কাছে সবুজের প্রতারণা ধরা পড়ে। বিদ্যমান এক স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করেছিলেন সবুজ। প্রিয় মানুষের এমন বিশ্বাসভঙ্গে কষ্ট পান সবুজের আগের স্ত্রী জেসমিন। চলে যান বাবার বাড়ি।

সবুজের পীড়াপীড়ি ও পরিবারের সম্মতিতে ফের স্বামীর বাড়িতে ফেরেন তিনি। তার মনে হয়তো নতুন বিশ্বাস জন্মেছিল। স্বামীর প্রতারণা ভুলে নতুন করে সব কিছু শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হয়নি, একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস আর সবুজের সন্দেহমূলক মনোভাবের পরিণাম টুম্পা খুন। আর খুনি বনে যান স্বামী সবুজ। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রোকসানা আক্তার টুম্পা (২৬) হত্যার অভিযোগে যশোর এসআর হোটেলের একটি কক্ষ থেকে সবুজ শেখকে (২৯) গ্রেফতার করে র‌্যাব। গতকাল র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আলী।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডের ২৩/এক্স নম্বর বাড়ির নিচ তলায় নব্য বুটিকস হাউজের বিক্রয়কর্মী রোকসানা আক্তার টুম্পাকে ছুরিকাঘাত করে তার স্বামী সবুজ। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল বাশার সবুজ শেখকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, টুম্পা যে দোকানে চাকরি করতেন, সেখানে সিসি ক্যামেরা ছিল। টুম্পাকে যেভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়, তা সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে। আমরা সে ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। রোববার রাতেই ওই ফুটেজ টুম্পার পরিবারকে দেখানো হয়। তারা নিশ্চিত করে টুম্পাকে যে ছুরিকাঘাত করেছে তার নাম সবুজ শেখ। সবুজ টুম্পার স্বামী ছিলেন। সবুজ ও টুম্পা প্রেম করে বিয়ে করেন সাত বছর আগে। তারা মিরপুরে বাসা নিয়ে থাকতেন। বিয়ের পর টুম্পা জানতে পারেন সবুজের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এরপর টুম্পা তাকে ডিভোর্স দিয়ে সাভারে তার মা-বাবার কাছে চলে যান। দেড় মাস আগে মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডের ওই দোকানে চাকরি নেন টুম্পা। সবুজ তা জেনে যান এবং সেখানে এসেই টুম্পাকে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন টুম্পার বাবা আবুল বাশার খলিফা সাংবাদিকদের জানান, টুম্পাকে প্রতারণা করে বিয়ে করে সবুজ। তাকে ডিভোর্স দেয়ার পরও টুম্পাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ আলী বলেন, রোকসানা আক্তার টুম্পা হত্যা মামলার পরপরই পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। তদন্তের একপর্যায়ে যশোরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে সবুজ শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here