পুলিশের সামনে হরিণের মাংস পরিনত হলগরুর মাংসে

0
48
Deer Meat
প্রতীকী ছবি

পুলিশের হাতে পড়ে ‘হরিণের মাংস’ পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে হয়ে গেল ‘গরুর মাংস’। আর সেই সাথে মুক্তিও পেয়ে গেল মাংস পাচারকারী যুবক প্রসেনজিত রপ্তান।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর কামাল মাস্টারের মোড়ে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ অবশ্য বলছে ‌’হরিণের মাংস’ পাচারকারী হিসেবে প্রসেনজিতকে আটক করা হয়েছিল। পরে দেখা যায় সেটি ছিল গরুর মাংস। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক ওই মাংস পাঠানো হয়েছে ঢাকার মহাখালীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় সেটি হরিণের মাংস তাহলে মামলা হবে। গ্রেফতার করা হবে প্রসেনজিতকে।

জানা গেছে, উপজেলার জেলেখালি গ্রামের রথীন্দ্রনাথের ছেলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক প্রসেনজিত রপ্তান রাতে প্রায় ২০ কেজি কাঁচা মাংস নিয়ে আসেন শ্যামনগর বাজারে।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাংসসহ তাকে আটক করে পুলিশ।

পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। এ সময় ইউপি সদস্য জলিল কাগুজির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার গোপন চুক্তি হয় পুলিশের সাথে। সে অনুযায়ী পুলিশ ঘোষণা দেয় যে এটা হরিণের নয়, গরুর মাংস।

পরে লোক দেখানোর জন্য পরীক্ষার নামে এ মাংস নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা প্রিয়াংকা কুণ্ডর কাছে। প্রিয়াংকা বলেন, ‘আমি বলেছি টেস্টিং মেশিনে পরীক্ষা না করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। রবিবার বিকাল পর্যন্ত আমার কাছে ওই মাংসের নমুনা পাঠায়নি পুলিশ।’

শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলি জানান, পরীক্ষার জন্য কাঁচা মাংস প্রাণি সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। রেজাল্ট এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসেনজিতকে মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

হরিণের মাংস পাচার ও থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জলিল কাগুজি জানান, ছেলেটি পাগলা ধরণের। আমি চেয়ারম্যানের কথা মতো তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। পুলিশের সাথে টাকা লেনদেন আমার মাধ্যমে হয়নি।

জেলেখালি গ্রামের লোকজন জানায়, প্রসেনজিত রপ্তান দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ও প্রকাশ্যে হরিণের মাংস বেচাকেনা করে আসছেন। প্রয়োজনে তার কাছে অর্ডার দিলে তিনি বাড়িতেই হরিণের মাংস পৌঁছে দেন। এজন্য তার নেতৃত্বে একটি গ্যাং রয়েছে। গ্যাংয়ের অপর সদস্যরা শনিবার রাতে পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে গেছে।

প্রসেনজিতের বাবা রথীন্দ্রনাথ বলেন, খোকাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনা কি তা আমি জানি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here