পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে স্কুলছাত্রের প্রাণ গেল

0
46

sitakund-tareq

পুলিশের চাঁদা থেকে বাঁচতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর সময় ট্রাক চাপায় মৃত্যু হয়েছে এক স্কুলছাত্রের। আহত হয়েছেন চালকসহ চারজন। জনতার রোষানলে পড়ে আহত হয়েছেন তিন পুলিশও। ভাংচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ওই এলাকায় পুলিশের বসার অস্থায়ী ছাউনি।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম বন্দর-ফৌজদারহাট বাইপাস সড়কের মধ্য ছলিমপুর গোলচত্বর এলাকায়।

এলাকাবাসী জানায়, ফৌজদারহাট ফাঁড়ির চার পুলিশ সদস্য বন্দর বাইপাস সড়কে দাঁড়িয়ে কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে চাঁদাবাজি করছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় একটি ট্রাক (সিলেট ড-১১-০৫৪১) ওই এলাকায় আসার আগে হাত তুলে দাঁড়াতে ইশারা দেয় দুই পুলিশ। চালক এ সময় দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে নিতে চাইলে স্থানীয় পথচারী মোহাম্মদ তারেককে (১৪) চাপা দিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায় গাড়িটি। গুরুতর আহত তারেককে স্থানীয়রা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। এ সময় গুরুতর আহত হন চালকসহ ট্রাকে থাকা তিন শ্রমিক।

নিহত তারেক স্থানীয় মধ্য ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। একই এলাকার মোহাম্মদ আকবরের ছেলে সে।

তারেকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয় এলাকাবাসীর। এতে আহত হন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মনির, কনস্টেবল কাসেমসহ তিন পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিদর্শক (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় কয়েকজন লোক পুলিশের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা চালায়। যারা পুলিশের ওপর হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত তারেকের ফুফু রিপা আক্তার ও জেঠি মা শাহানা আক্তার বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের কয়েক হাত দূরে ছিলাম। পুলিশ সিগারেট আনতে বলে তারেককে। সে সিগারেট আনতে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক চাপা দেয় তাকে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here