পাঠকের মতামত কি? ব্যাংকে এক ঘরের ৪ জন থাকার সুযোগ তৈরির প্রস্তাব সংসদে

0
12

পরিচালনা পর্ষদে একসঙ্গেএক পরিবারে চার সদস্য থাকার সুযোগ তৈরিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে উঠেছে।

প্রস্তাবিত আইনে একটানা নয় বছর পরিচালক পদে থাকার বিধানওরাখা হয়েছে। সংসদের মঙ্গলবারের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল, ২০১৭’ উত্থাপন করেন।

বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন সদস্য একটি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন।আর তিন বছর করে পরপর দুই মেয়াদে মোট ছয় বছরএকই ব্যক্তি পরিচালক হতে পারেন। এরপর তিন বছর বিরতি দিয়ে আবারও পরিচালক হতে পারেন।

চলতি বছরের ৮ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধিত আইনের খসড়া অনুমোদনের পর থেকে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্তে বেসরকারি ব্যাংকে ‘পরিবারতন্ত্র’ কায়েমের সুযোগ তৈরি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মূলত প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সুযোগ দিতেই ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যমান আইনে অনেকেরই পরিচালক থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল। এর মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালকদের কাছে সরকারের নতি স্বীকার হল বলেও মনে করেন অনেকে।

সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর আপত্তি করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তবে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয় যায়।

আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে পরিচালকের মেয়াদ সংক্রান্ত ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন কার্যকর হওয়ার পরে কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে নয় বছরের বেশি থাকতে পারবেন না।

একই ধারায় বলা হয়,একাদিক্রমে নয় বছর পদে থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে তিনি পরিচালক পদে পুনঃনিযুক্তির জন্য যোগ্য হবেন না।

এই ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়, কোনো ব্যক্তি পরিচালক পদে তিন বছরের চেয়ে কম সময় অধিষ্ঠিত না থাকলে একাদিক্রমে নয় বছর গণনার ক্ষেত্রে উক্ত সময়েও অন্তর্ভুক্ত হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ পাস হওয়ার পর থেকে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালকদের মেয়াদ-সম্পর্কিত ধারাটি পাঁচবার সংশোধন করা হয়েছে। এই ধারায় ব্যাংকের পর্ষদে একজন পরিচালক কত বছর পরিচালক থাকতে পারবেন, সে কথা বলা রয়েছে। সর্বশেষ ধারাটি সংশোধন করা হয় ২০১৩ সালে। এবার ষষ্ঠবারের মতো সংশোধনের প্রস্তাব উঠল।

আপত্তি প্রস্তাব উত্থাপনের সময় ফখরুল ইমাম বলেন, “এই আইনের সংশোধনী অনৈতিক। কোনো ব্যক্তির জন্য একটি আইন হতে পারে না। দুজন সদস্য হওয়াতেই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সেখানে চারজন করে নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে। ফ্যামিলি ব্যাংক নামে আরেকটি ব্যাংক আমরা দেখতে পাব।”

আপত্তির জবাব দিতে গিয়ে মুহিত বলেন, “১৯৯১ সালে ব্যাংক কোম্পানী আইনটি প্রণীত হওয়ার পর গত ১৭ অর্থ বছরে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। এই নতুন পরিস্থিতিতে কত টাকা, বড় অঙ্ক আর কত টাকা ছোট অঙ্ক তার ধারণা একেবারেই বদলে গেছে।”

বিশ্বের ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “অতীতে ব্যাংক পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই ছিল। ব্যাংকের পদ্ধতিই এমন যে, সেখানে উদ্যোক্তাদের একটা ভূমিকা থাকে। আমরা এই সুযোগ দিচ্ছি ৯ বছরের জন্য; একটি ব্যাংকের ইতিহাসে নয় বছর বেশি কিছু নয়।”

এক পরিবারের চার পরিচালকের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই প্রস্তাবটি বহুদিন ধরেই বিবেচিত হচ্ছে। আমি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এটা একটু একটু করে সামনে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতেও এটা আসে। এ নিয়ে আমরা কমিটিও গঠন করি। ব্যাংকিং খাতের দুটি সংগঠনের থেকেও এ বিষয়ে কিছু সুপারিশ আসে। মন্ত্রিসভায় পরে এটি সর্বসম্মতক্রমে পাস হয়। সংসদেও এটা নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে।”

আইন সংশোধনের কারণ নিয়ে সংসদে লিখিত ব্যাখ্যায় মুহিত বলেন, “বিদ্যমান আইনের কয়েকটি ধারায় অস্পষ্টতা রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকগণ সংক্রান্ত তিনটি ধারায় অস্পষ্টতা দূর করা না হলে ব্যাংকগুলোর গতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো পরিবারের কেউ পৃথকভাবে ব্যবসা করলে এবং নিজেই করদাতা হলে তাকে পরিবারের উপর নির্ভরশীল বলা যায় না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here