পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্তকারীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ!

0
16

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করলে তার তদন্ত শুরু করে দুদক। ওই তদন্ত পর্যবেক্ষণে ২০১২ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশ্ব ব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল।

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্তকারীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ

আর সেই বিশ্ব ব্যাংকের হয়ে বাংলাদেশে আসা প্রতিনিধি দলের প্রধান লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ অনেক অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর থাকাকালে অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং করস্বর্গ (ট্যাক্স হেভেনস) নামে পরিচিত দেশ ও এলাকায় তার কোম্পানি থাকার তথ্য উঠে এসেছে ফাঁস হওয়া নথিতে। তবে কানাডার একটি আদালত পদ্মা প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের আনা দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খারিজও করে দিয়েছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপড়েনে এই প্রকল্পে সংস্থাটির অর্থায়ন আর হয়নি। কূটনৈতিক তারবার্তা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য সম্বলিত ৪০ হাজার নথি এসেছে ফরাসি অনলাইন জার্নাল মিডিয়াপার্টের হাতে।

ওই সব নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টিগেটিভ কোলাবোরেশনস (ইআইসি) বলছে, আইসিসির দায়িত্ব ছাড়ার পর সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষে কাজ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন ওকাম্পো। ৬৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন আইনজীবী ওকাম্পো প্রথম আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আসেন তার দেশের সামরিক জান্তা সরকারের সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করতে ভূমিকা রেখে। ২০০৩ সালে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রথম প্রসিকিউটর হন তিনি, এই দায়িত্বে ছিলেন নয় বছর।

২০১৫ সালের ১২ মে ওকাম্পো তার পক্ষে কাজ শুরু করার ছয় দিনে মাথায় আইসিসির চিফ প্রসিকিউটর ফাতোস বেনসোডা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির বেসামরিকদের হত্যা-নির্যাতন ও তাদের হাতে আটকদের নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাতানাকিকে যাতে আইসিসির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে না হয় সেজন্য ওকাম্পো পথ বাতলে দিতে চেয়েছিলেন বলে তার একটি ইমেইলে উঠে এসেছে।

এদিকে রোমানিয়াভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট বলছে, আইসিসির দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রচুর অর্থ বানাচ্ছেন ওকাম্পো। নিউইয়র্কভিত্তিক ল ফার্ম গেটনিক অ্যান্ড গেটনিকে পরামর্শক, হার্ভার্ডের লেকচারার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ভাইয়ের সঙ্গে মোরেনো ওকাম্পো নামে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই গাদ্দাফি পরবর্তী লিবিয়ায় যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ধনকুবের হাসান তাতানাকিকে আইনি সহায়তা দিতে চুক্তি করেন ওকাম্পো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here