নেশাগ্রস্ত অবস্থাতে স্টার্ট নেবে না মোটরবাইক!

0
20

motorcycle not start

‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ নামে একটি প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে চমক সৃষ্টি করেছে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান রিয়াত। দীর্ঘ ৪ মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন তিনি।

তার আবিষ্কৃত ডিভাইসটি ব্যবহার করলে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চলবে না। এমনকি নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও স্টার্ট দেবে না মোটরবাইক। ফলে এটি ব্যবহারের মাধ্যমে মারাত্মক কোনো অঘটন থেকে রক্ষা পেতে পারেন মোটরসাইকেলচালকরা।

তার এই উদ্ভাবনী আবিষ্কারে খুশি সহপাঠীসহ ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা।

মতিউর রহমান রিয়াত এই প্রতিনিধিকে জানান, ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ‘স্কিলস কম্পিটিশন’ প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু করার প্রত্যয় ছিল তার। সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে কম্পিটিশনে ২০১৬ সালে ‘উইন্ড পাওয়ার মিলের’ জন্য ৩য় স্থান অধিকার করেন তিনি। এটি ছিল তীব্র বায়ুপূর্ণ এলাকা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন। তারই ধারাবাহিকতায় তার সর্বশেষ আবিষ্কার ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ প্রযুক্তি।
এ আবিষ্কারের কারণে এরই মধ্যে জেলা পুলিশিং কমিউনিটির পক্ষ থেকেও রিয়াতকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

মতিউর রহমান রিয়াত জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হেলমেট ছাড়া কোনো বাইক স্টার্ট হবে না। এজন্য আরোহীকে হেলমেট পরতে হবে। আর বাইকের নির্দিষ্ট একটি স্থানে সম্পৃক্ত করা হবে একটি ছোট্ট ডিভাইস। ডিভাইসটি বাইক থেকে বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করবে। হেলমেটের ওপর থাকা সোলার কোষ থেকে হেলমেটের ডিভাইসটি বিদ্যুৎ পাবে। এ ছাড়াও পেন্সিল ব্যাটারি ব্যবহার করেও হেলমেটের ডিভাইস চালু রাখা যাবে।

রিয়াত বলেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও গাড়ি স্টার্ট নেবে না। এজন্য হেলমেটের সামনে একটি বায়ু সেন্সর বা ঘ্রাণ সংবেদনশীল সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কেউ বাইক চালাতে পারবেন না। প্রথম অবস্থায় বাইক চালু হলেও গন্ধের কারণে বাইক বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়াও মোটরসাইকেল চুরি হওয়া থেকেও সাময়িক রক্ষা পাওয়া যাবে।

ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান রিয়াতের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাতইল গ্রামে। বাবা ছাতইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা ঝর্ণা বেগম একজন গৃহিণী।

এ পর্যন্ত ছয়টি প্রজেক্টের সফল উদ্ভাবনীর জন্য জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার।

রিয়াতের সহকর্মী আক্তারউজ্জামান ও মিথুন রায় বলেন, রিয়াতের কাজে সহপাঠীরাই ভীষণ খুশি। ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব।

কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষ ড. নুরে আলম জানান, জেলা পর্যায়ে ‘স্কিলস কম্পিটিশন-২০১৭’ অনুষ্ঠিত হয় গত মাসে। সেখানে ১০টি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে রিয়াতের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট বাইক সিস্টেম’ প্রথমস্থান অধিকার করেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে।

রিয়াতের এই উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি মানুষকে তার সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখাবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, জেলা থেকে বিভাগ এবং সর্বশেষে জাতীয় পর্যায়ে রিয়াতের উদ্ভাবিত স্মার্ট বাইক সিস্টেমটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here