নিয়ম না মানায় বিএনপিকে বাধা দেওয়া হয়েছে:সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

0
15

ত্রাণ বিতরণের নিয়ম না মানায় বিএনপিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি সেখানে রাজনীতি নিয়ে গেছে। না হলে তারা নিয়ম মানবে না কেন?’

নিয়ম না মানায় বিএনপিকে বাধা দেওয়া হয়েছেসেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের দুর্যোগ ও ত্রাণ উপ-কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, শরণার্থী ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণের একটি নিয়ম রয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সবাই ত্রাণ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ তিনি (কাদের) নিজেও সেভাবে ত্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি নিয়ম মানতে চায় না। তারা ত্রাণের নামে দায়সারা গোছের লোক দেখানো প্রতারণা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি কমিটির কাছে ত্রাণ দিলে এবং তাদের মাধ্যমে ত্রাণ দিতে গেলে, বিএনপি নেতারা শরণার্থী শিবিরে পৌঁছার আগেই ত্রাণ পৌঁছে যেত। এটি মানবিক সাহায্যের বিষয়। এখানে সরকার রাজনীতি ও অমানবিক ব্যবহার কেন করবে? কেন তাদের বাধা দেওয়া হবে? লাখ লাখ মানুষ। তাদের খাদ্য ও থাকার জায়গা দিতে হবে, স্যানিটেশনের বিষয়ও আছে। এটি বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। এই সংকট একা মোকাবেলার করার কথা সরকার কখনও ভাবেনি।’

বিএনপির ত্রাণ দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তো ত্রাণ দিতে যায় না। তারা কয়েকটা নিউজ আর ছবির জন্য যায়। এরপর দলীয় কার্যালয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও কয়েকটা ট্রাক সাজিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তারা। এর ভেতরে কী ছিল না ছিল- তা নিয়ে অনেক কথাই আছে। সেখানে ত্রাণ ছিল কি-না? অনেক কিছু থাকলেও থাকতে পারে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।’

ত্রাণ দিতে গেলে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টাও দেখা প্রয়োজন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে কী ভয়াবহ অবস্থা! সব না খাওয়া লোক। প্রতিনিয়ত এই জনস্রোত আসছে। সেখানে নিয়মের বাইরে কেউ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গেলে তাদের জীবনই সংশয়ের মধ্যে পড়ে যেত।’

তিনি নিজে সেখানে কয়েকবার গেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকায় বসে বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায় না। অথচ বিএনপি সেখানে রাজনীতি নিয়ে গেছে। সবক্ষেত্রে সস্তা রাজনীতি করা উচিত নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শৃঙ্খলা না রাখলে সব লুটপাট হয়ে যেত। যারা বিতরণ করতে যেতেন, তারাও নাজেহাল হতেন। বিএনপি নেতারা ওখানে যাবেন, অথচ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানে না। বিএনপি নেতাদের তো নিরাপত্তার ব্যাপারও আছে। সেখানে যে পরিবেশ এই পরিবেশে ২০/২৫টি ট্রাক গেলে কী অবস্থা হত, যখন ওখানকার না খাওয়া লোকরা বুঝতো যে এসব ট্রাকে খাদ্য আছে? রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেখানে সারাবিশ্বের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করছেন, সেখানে বিএনপি সমালোচনা করছে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার নামে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য চাঁদাবাজির মহোৎসব যেন না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে চাঁদাবাজি কিংবা জোর-জবরদস্তি সহ্য করা হবে না। এটি তো মানবিক ব্যাপার। যারা স্বেচ্ছায় সাহায্য করবে, সেটি গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগের দুর্যোগ ও ত্রাণ উপ-কমিটি আগামী শীতকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ২০ হাজার কম্বল বিতরণ করবে।

তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল বাংলাদেশে এসেছে। রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এখনও এদেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরপর বর্তমান সরকারের সময় এদেশের ওপর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে। সরকার চ্যালেঞ্জগুলো ঠাণ্ডা মাথায় অতিক্রম করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই সংকট কত দীর্ঘায়িত হবে তা জানা নেই। তবে আশার কথা হচ্ছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ বিশ্বজনমত বাংলাদেশের পক্ষে। আশা করছি, চীনকেও পাশে পাবো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিতে পারে বলে আমরা প্রথম মনে করেছিলাম। কিন্তু এই প্রথমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার বিষয়ে বিবৃতি দিতে ঐকমত্য হয়েছে। কেউই মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। তাই আশা করছি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে।’

তিনি জানান, আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী টিম চীন যাচ্ছে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও অবশ্যই রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হবে। এছাড়া আগামী মাসে ভারতীয় জনতা পাটি (বিজেপি) সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের আমন্ত্রণে আরেকটি টিম ভারত যাবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরের পরই ওই সফর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, হারুনুর রশীদ, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ডা. রোকেয়া সুলতানা, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here