নারীদের ফোটা ফোটা ঋতুস্রাবে কারণ ও সমাধান (স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য) লজ্জা নয়, প্রত্যেক নারীরা জেনে নিন !!

0
179

period

সময়ে সময়ে নারীদের ঋতুস্রাবে নানা প্রকার অনিয়ম ভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেক সময় এই ঋতুস্রাব নির্দিষ্ঠ সময়ে না হয়ে অনিয়মিত ভাবে ফোটা ফোটা পড়তে থাকে। এই জাতীয় লক্ষণযুক্ত পীড়াকে অলিগোমেনেরিয়া বলা হয়ে থাকে।

নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব বা অলিগোমেনেরিয়ার কারণ :- বিভিন্ন কারণে এই রোগটি হতে পারে-

০১. জরায়ু বা ডিম্বকোষের অপরিনতি ভাব সৃষ্টি হওয়ার জন্য অনেক সময় নির্দিষ্ঠ সময় যথারীতি রজস্রাব হয় না। জরায়ুর স্বাভাবিক ক্রিয়া ঠিকমত হয় না বলে রজস্রাবে গোলযোগ দেখা দেয়। জরায়ুর স্বাভাবিক কাজ ঠিক মত হলে পূর্ণ স্রাব ৪/৫ দিনে হওয়ার কথা কিন্তু তা যদি না হয় তবে ঋতুস্রাবে বিলম্ব হতে পারে এবং ইহার ফলে অনেকদিন ধরে স্রাব ফোটা ফোটা হতে পারে।
০২. নারী দেহে যদি হরমোনের অভাব ঘটে তবে স্রাব স্বভাবতই কম হয় এবং এর ফলে অনেক সময় ধরে একটু একটু করে হয়। কিন্তু এতে ঋতুকালের সময় ৬/৭ দিনের বেশি হয় না।

০৩. যদি কোন নারীর দেহে গনোরিয়া বা সিফিলিসের জীবানু থাকে এবং এই জন্য জরায়ু, জরায়ু ঝিল্লী, মেমব্রেন, ডিম্বনালী, ওভারী প্রভৃতি আক্রান্ত হয় তবে ঋতুস্রাবে অবশ্যই গোলযোগ থাকে। এই সব রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঠিকমত স্রাব হয় না, তাদের ঋতুস্রাব অনেক দিন পর্যন্ত চলতে পারে এবং জরায়ু থেকে ফোটা ফোটা রক্ত অনেক দিন পর্যন্ত পড়ে থাকে।
০৪. ডিম্বকোষের প্রদাহ হলে অথবা ডিম্বকোষের জন্য কোন রোগ হলে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ঠ সময় ধরে তা থেকে ইষ্ট্রন ও প্রজেসষ্ট্রন নিঃসরণ হয় না। তার ফলে ঋতুচক্র নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় না এবং জরায়ুর কাজও নিয়মিত সঠিক মত হয় না। যার কারণে ঋতুর সময় দীর্ঘ হতে পারে এবং ঋতুস্রাব ফোটা ফোটা ও থেমে থেমে হতে পারে।
০৫. অনেক সময় দেখা যায়, নারী গর্ভবতী হওয়ার পরও ঋতু চক্রে তার ঋতু ঠিকমত চলে না তবে মাঝে মাঝে ফোটা ফোটা স্রাব হতে থাকে। অবশ্য এটি হরমোনের গোলযোগের কারনেও হতে পারে।

০৬. দেহে রক্তহীনতার ভাব থাকলে বা দৈহিক পরিপুষ্টির অভাবেও ইহা হতে পারে। এই অবস্থায় ঋতুস্রাবে গোলযোগ থাকবে এবং ধীরে ধীরে ফোটা ফোটা ঋতুস্রাবহতে থাকবে।
নারীদের ফোটা ফোটা স্রাব বা অলিগোমেনেরিয়ার লক্ষণ :- অলিগোমেনেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে বিশেষ কতগুলি লক্ষণ প্রকাশ লাভ করে থাকে।

নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
রোগিনীর দেহে রক্তহীনতার ভাব অতি প্রকট ভাবে দেখা যায়। আবার কোন কোন নারীর ক্ষেত্রে এই ভাব নাও থাকতে পারে। এই লক্ষণ সাধারনত দীর্ঘস্থায়ী হয় অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফোটা ফোটা স্রাব হতে থাকে। ঋতুকালে যথারীতি ঋতুস্রাব না হয়ে জরায়ু থেকে ফোটা ফোটা রক্তপাত হতে থাকে।

এই ফোটা ফোটা স্রাব কখনো বা ঋতুচক্র অনুসারে হয় আবার কখনো বা অনিয়মিত ভাবে হয়। যদি গর্ভকালে এমন হয় তবে তার জন্য পৃথক লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। এই সমস্যায় নারীরা ভয়ানক দূর্বল হয়ে পড়ে এবং চেহারা মলিন দেখায়।

দূর্বলতা জনিত লক্ষণগুলি অতি পরিষ্কার ভাবে প্রকাশ পেয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার দূর্বলতা তেমন একটা থাকে না। গনোরিয়া বা সিফিলিস রোগ থাকলে ভিন্ন ধরনের লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে।

অলিগোমেনেরিয়ার জটিল উপসর্গ :-
এই সমস্যায় দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নানা রূপ জটিল উপসর্গ প্রকাশ পায়। এর ফলে জরায়ুর প্রদাহ, ডিম্বাশয় ও ডিম্বনালীর প্রদাহ, জরায়ুর ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ভয়ঙ্কর রক্তহীনতা দেখা দিতে পারে।

তাই প্রথম অবস্থাতেই হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা নেয়া উচিত তাতে যন্ত্রনাকর কোন উপসর্গই বিকশিত হতে পারে না আর রোগিনী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে থাকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here