ধরা খেল কোটিপতি ‘বড়ি খোকন’,খোকন মিয়ার ‘বড়ি খোকন’হওয়ার রহস্য

0
62

bori khokon

বড় ভাইদের (স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী) নজরানা দিয়ে নির্বিঘ্নেই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর ইয়াবা কারবারি। সব সময় তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশের ফাঁদে আটকা পড়লেন বড়ি খোকন। উপজেলার বাবুটিপাড়া থেকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয়। গতকাল বুধবার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

খোকন মিয়া। ‘বড়ি খোকন’ নামেই এলাকায় তাঁর নামডাক। খোকন এলাকার একজন চিহ্নিত বখাটে। ইয়াবা কারবারই তাঁর মূল পেশা। এ পেশায় আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া খোকন এখন কোটিপতি। তাঁর বাড়ি মুরাদনগর সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে আসাদনগর গ্রামে।
তাঁর বাবার নাম মো. রেসমত আলী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটিতে সবই টিনের ঘর। সবার চালচলনও সাদাসিধে। কিন্তু হঠাৎ প্রায় এক একর জমিতে বিশাল বাড়ি তৈরি করেন খোকন। আর এতেই সবার চোখ চড়ক গাছ। শুরু হয় গুঞ্জন। ব্যাপারটা এলাকার মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো ঠেকে। দৃষ্টিনন্দন ওই বাড়ির খোঁজ নিতে গিয়ে কথা হয় খোকনের কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে। তারা জানায়, শুধু বাড়িই নয়; ঢাকার মগবাজারে দুটি দোকান ও গৌরীপুর বাজারে একটি দোকান নিয়েছেন খোকন প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করে। এলাকার ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বড়ি (ইয়াবা) বেইচ্যা এ রহম করা যায় তা ভাবতেও অবাক লাগে। তা অইলে তো এইডা স্বর্ণের চেয়েও দামি। ’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইয়াবার কারণে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর বিচার হওয়া দরকার। ’

এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, খোকনের এই কারবারের প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায় না। প্রভাবশালী লোকদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অনায়াসে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর খোকনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন। তাঁর অন্য কোনো কারবার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আর কোনো কারবার নেই। ’ মুরাদনগর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান জানান, জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, খোকন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ইয়াবার ক্রেতা সেজে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে আসাদনগর গ্রাম থেকে ধরা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here