ঢাকা মেডিকেল কলেজে চার জঙ্গির লাশ নিয়ে বিপাকে মর্গ

0
24

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ কর্তৃপক্ষ চার জঙ্গির লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে চার জঙ্গির লাশ নিয়ে বিপাকে মর্গ

মর্গের ফ্রিজ নষ্ট থাকার কারণে এক জঙ্গির লাশ ট্রলিতে আর তিনটি লাশ মেঝেতে রাখা হয়েছে। মর্গের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) চারটির মধ্যে চারটিই নষ্ট। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লাশগুলো দু-একদিন পরে আর সংরক্ষণ করার কোনো উপায় থাকবে না।

আজ সোমবার দুপুরে মর্গে গিয়ে দেখা যায়, চার জঙ্গির লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মর্গের ইনচার্জ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমাদের যতটুকু সাধ্য সে অনুযায়ী স্প্রে দিয়ে, কিছু ওষুধ দিয়ে লাশগুলো সংরক্ষণ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এই গরমে এভাবে লাশ আর কত দিন সংরক্ষণ করা যায়? থানাগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা লাশগুলো না নিলে আমরা তো আর কিছু করতে পারি না।’

সেকেন্দার জানালেন, মর্গে চার শেলফবিশিষ্ট পাঁচটি মরচুয়ারি কুলার (ফ্রিজ) আছে, এতে ২০টি মৃতদেহ সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু বর্তমানে চারটি ফ্রিজই অচল। ৬ আগস্ট সর্বশেষ ফ্রিজটি নষ্টের তালিকায় যোগ হয়। বর্তমানে সচল একটি ফ্রিজে চারজন বিদেশি নাগরিকের লাশ এবং হিন্দু না মুসলমান—এটি নিশ্চিত না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে একটি লাশ রাখা হয়েছে। যদিও একটি ফ্রিজে চারটি লাশ রাখা যায়।

মর্গ সূত্র জানায়, উল্লিখিত চার জঙ্গির লাশের মধ্যে একটি সাইফুল ইসলামের (২১)। ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলায় পুলিশের ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ অভিযান মারা যান সাইফুল। পরদিন থেকে লাশটি মর্গে আছে। বাকি তিনটি লাশের মধ্যে বিমানবন্দর থানা থেকে দুই জঙ্গির লাশ মর্গে আসে ১৮ ও ২৫ মার্চ। আর রূপনগর থানা থেকে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আরেক জঙ্গির লাশ আসে মর্গে।

মর্গের কর্মকর্তারা জানালেন, এই জঙ্গিদের কোনো স্বজন লাশ নিতে মর্গে আসেনি। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোও লাশগুলোর বিষয়ে কিছু বলছে না। মর্গ কর্তৃপক্ষের চিঠি চালাচালি, টেন্ডার দেওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় সময় লাগছে। আর এদিকে মর্গে কর্মরতদের এই দুর্গন্ধের মধ্যে নিত্যদিনের কাজ চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে লাশের প্রতি যথাযথ যে সম্মান দেখানোর কথা, তা-ও সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ জুলাই মাসের ১৭ তারিখ কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর মর্গের সার্বিক অবস্থা জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। চার জঙ্গিসহ বিদেশি নাগরিকদের লাশের কথাসহ মর্গের সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ বলে ফ্রিজ ও এসি মেরামতের জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

মর্গ এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, মর্গের ফ্রিজ, এসি নষ্ট নিয়মিত ঘটনা। নষ্ট হওয়ার পর চিঠি চালাচালি করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে মেরামতও করা হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মর্গ খুব বাজে অবস্থায় আছে। আমার বিভাগ থেকে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর চিঠি লিখছি। সেখান থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে। প্রশাসনের অবহেলা, নাকি প্রশাসন মর্গের গুরুত্ব বুঝতে পারছে না; তা আমরাও বুঝতে পারছি না। গণমাধ্যমে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, হাইকোর্টের নির্দেশ কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, বা টনক নড়ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here