টাঙ্গাইল অংশে বঙ্গবন্ধুসেতুর দক্ষিণে গ্রামরক্ষা বাঁধে ধস

0
38
টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃযমুনার টাঙ্গাইল অংশে বঙ্গবন্ধুসেতুর দক্ষিণে কালিহাতী উপজেলার গরিলাবাড়ি গ্রামরক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে বুধবার(২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বাঁধের এক হাজার মিটার ধসে যমুনার পেটে চলে গেছে। এতে বাঁধের অংশের বেশ কয়েকটি ব্লকও ধসে যায়।
বঙ্গবন্ধুসেতুর দক্ষিণে  গ্রামরক্ষা বাঁধে ধস
টাঙ্গাইল অংশে বঙ্গবন্ধুসেতুর দক্ষিণে গ্রামরক্ষা বাঁধে ধস
জানা যায়, ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধুসেতুর পূর্বপাড়ে কালিহাতী উপজেলার গরিলাবাড়ি এলাকায় সেতুর দক্ষিণে গাইড বাঁধে কয়েকটি গ্রাম রক্ষার্থে যমুনা নদীতে সিসি ব্লক ও কার্পেটিং করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। দক্ষিণ বেলটিয়া গ্রামের আব্দুল আলীম, চাঁন মিয়া সিকদার সহ এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধের অদুরবর্তী স্থানে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এ বাঁধে ধস নেমেছে। তারা জানান, বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে পড়লে টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আবারও বন্যা দেখা দিবে।
বঙ্গবন্ধুসেতু পুর্ব প্রান্তে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) সাইট অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন জানান, সেতুর দক্ষিণের গাইড বাঁধের অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে।
বিবিএ’র সাইট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াসিম আলী জানান, মূল সেতুর বাইরে ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা ভেঙে যায়নি। ধসের অংশটুকু সেতুর মধ্যে পড়ে না।
এদিকে, টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও জেলার পূর্বাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। উজানের পানি নেমে ঘাটাইল, কালিহাতী, বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার নিচু এলাকায় ঢুকছে।
জানাগেছে, ঘাটাইল, কালিহাতী ও সখীপুর উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকার পশ্চিমে নিচু বসতিতে উজানের পানি নেমে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব এলাকার পাকা সড়কে পানি উঠেছে। টাঙ্গাইল-৪(কালিহাতী) আসনের এমপি হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারি মঙ্গল ও বুধবার(২৩ আগস্ট) নৌকা নিয়ে ওইসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্থানীয়দের ধৈর্য ধরে বন্যা মোকাবেলা করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন।
টাঙ্গাইলে বাড়ির উঠানে ধানের বীজতলা টাঙ্গাইল প্রতিনিধি চলতি বন্যায় টাঙ্গাইলের ৯টি উপজেলায় রোপা আমন, বোনা আমন ও কালিজিরা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং ধান আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা বাড়ির উঠান ও উচু জায়গায় বীজতলা তৈরি করে রেখেছেন। জমি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেই কৃষকরা পুনরায় নতুন করে ধানের চারা লাগাবেন।
জানাগেছে, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে টাঙ্গাইলের ৯টি উপজেলা এবারের বন্যার কবলে পরে। দ্বিতীয় দফায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকের ফসলী জমি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্রিধান ৪৯, বিআর ১১ ও বিনাশাইল আগাম জাতের রোপা আমন, বোনা আমন ও সুগন্ধী ধানের। সদ্য লাগানো ধানের চারা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ে কৃষকরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগও চিন্তিত হয়ে পরে ধানের লক্ষমাত্রা অর্জন নিয়ে। পরে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দেন বাড়ির উঠান ও উচু স্থানে বীজতলা তৈরির।
টাাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওসমান গনী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিজেদের বাড়ির উঠান ও উচু স্থানে ব্রিধান ৪৬, বিআর ১১ ও ২২ এবং কালিজিরার লেট জাতের ধানের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়। এজাতের ধান দেরীতে রোপন করলেও অল্প সময়েই ফসল ঘরে তোলা যায়। ব্যতিক্রমী এ পরামর্শ পেয়ে প্রাণ ফিরে পান কৃষকরা। তারা একবুক আশা নিয়ে নিজেদের বাড়ির উঠান ও উচু স্থানে বীজতলা তৈরি করেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিত তৎপরতায় দ্রুত বেড়ে উঠছে এসব বীজতলা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষকরা আবারো নেমে পরবেন ধান আবাদে।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু আদনান জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে ৩২ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে বোনা আমন রোপন করা হয়েছিল। এরমধ্যে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৩৯০ হেক্টর। এছাড়া ৮১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন রোপন করা হয়েছিল। বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বন্যার পর এসব কৃষকদের পুর্নবাসন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here