জীবনের যে দশটি অমোঘ সত্য এড়াতে পারবেন না আপনি

0
30

true of life

জীবন বহতা নদীর মতন। যেখানে যেটুকু অনুপ্রেরণা পাই আমরা, সেটুকু পুরোপুরি তুলে নেবার চেষ্টা করি। সাফল্যের গল্পগুলো শুনে ভেতরে ভেতরে শক্তি ও সাহস সঞ্চয় করে নিই। কিন্তু সকলের জীবন কী গল্প কিংবা সিনেমার মতন হয়? পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের সফলতা ও ব্যর্থতার গল্পের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
আজকের আয়োজনে আপনাদের জন্য রয়েছে জীবন সম্পর্কিত দশটি অমোঘ সত্য যা আপনি এড়িয়ে চলতে পারবেন না মোটেই। কারণ, পরিপূর্ণভাবে জীবন নির্বাহ করতে হলে আপনাকে এর মধ্য দিয়েই যেতে হবে। কিন্তু সত্যগুলো আপন করে নিলেই খুব সহজভাবে বাঁচতে শিখবেন আপনি। বাস্তবতা খুব একটা কঠোর মনে হবে না আপনার কাছে।

লক্ষ্য ব্যতীত জীবন অর্থহীন

আপনি কোন ধরনের উদ্দেশ্য ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন, তবে আপনি অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ানো ছাড়া আর কিছুই করছেন না। জীবনে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থাকলে কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনটি কম গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করা খুব সহজ হয়।
বর্তমান অবস্থা ও পরিস্থিতির দিকে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করলে আপনি আত্মিক শান্তি অনুভব করবেন। অতীত এবং ভবিষ্যতকে আপন হালে ছেড়ে দিন।

অন্যেরা আপনার ব্যাপারে কি ভাবে তাতে কিছু যায় আসে না

অনেক মানুষই হয়তো এ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। অন্য মানুষ আমাদের নিয়ে কী ভাবছে তা ভেবেই আমরা জীবনের অর্ধেক সময় পার করে দিই। এটি মানসিক ও শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যেই মারাত্মক! মানুষ যদি আপনাকে নিয়ে ইতিবাচক কোন চিন্তা পোষণ না করে তবে কী আপনি নিজের ওপর থেকে সম্পূর্ণ মনোবল হারিয়ে ফেলবেন? সেটি কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত? নিজেকে ও নিজের জীবনকে কতোটুকু সম্মান ও মর্যাদা আপনি দেবেন তা সম্পূর্ণই আপনার উপর নির্ভরশীল।

আমাদের কোন কিছুর উপরেই নিয়ন্ত্রণ নেই

আমরা আমাদের জীবনের সবকিছু নিজের অধীনে নিয়ে আসতে চাই কিন্তু সত্যতা হচ্ছে, তা কখনো সম্ভব নয়। আপনি নিজের শরীরের কথাই চিন্তা করে দেখুন না? আপনার চুল একা একাই বড় হচ্ছে, হৃদস্পন্দন একাই চলছে কিংবা শরীরের শিরা-উপশিরাগুলো নিজে নিজেই পরিবাহিত হচ্ছে। আপনি যদি মানুষ হয়েই থাকেন, তবে এ সত্য আপন করে নিয়েই বাঁচতে হবে।
জীবনের অনেক ব্যাপার আছে যেগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আপনি সহ্য করতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে অন্যদিকে মনোনিবেশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্যর্থতাই সাফল্যের চাবিকাঠি

কোন মানুষের জীবনই সফলতায় পরিপূর্ণ নয়। জীবনে একটু-আধটু ব্যর্থতার আঁচড় থাকতেই পারে, এটি আপনার সাফল্যের পথ বেগবান করবে। আমরা প্রায়শই ব্যর্থতাকে এড়িয়ে চলতে চাই কেননা এটি আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে।
কিন্তু আপনি যদি সৎ হোন, তবে খেয়াল করে দেখবেন কোন কাজে ব্যর্থ হলে সে কাজটা আপনি পরিপূর্ণভাবে শিখতে পারবেন। জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাবেন।

আপনার সহায়-সম্পত্তি দ্বারা আপনাকে বিচার করা হয়না

দামি গাড়ি, ব্র্যান্ডের ব্যাগ, বিলাসবহুল পোশাক- এগুলো থাকলে আপনি চনমনে অনুভব করেন ঠিকই কিন্তু মানুষ হিসেবে আপনি ঠিক কেমন সে ব্যাপারে এগুলো কিছু প্রকাশ করে না। জাগতিক বিষয়বস্তুর দিকে মনোনিবেশ করা বন্ধ করে অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতা এবং সম্পর্কের দিকে মন দিন। আপনিই লাভবান হবেন।

ভাবা এক এবং করা আরেক

তরুণ বয়সে আমরা দিবাস্বপ্ন দেখেই অনেকটা সময় কাটিয়ে দিই। কিন্তু শুধুমাত্র স্বপ্ন দেখে কোন কাজ যদি না করি, সেটি এক পর্যায়ে ক্ষতির খাতায় নাম লেখায়। সফলতা আপনার কাছে কোনভাবেই পায়ে হেঁটে আসবে না কিন্তু, এ যাত্রায় আপনাকেই আগ বাড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে। উঠে দাঁড়ানো এবং আপন স্বপ্ন পূরণে সোচ্চার হওয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে
সুতরাং, সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই সেটি খুঁজে নিন।

পরিবর্তন একটি চিরন্তন সত্য

সমগ্র পৃথিবীতে পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুবক। যতো কষ্টই আপনি করুন না কেন, প্রাকৃতিক ব্যাপার কখনোই থামাতে পারবেন না। আমরা প্রত্যেকেই বার্ধক্যের পথে ধাবিত হচ্ছি। ভালো মুহূর্তগুলো গ্রহণ করে আপনি যদি সময়গুলো উপভোগ করতে পারেন, তাতেই সাফল্য নিহিত।

প্রত্যেকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে

তরুণ বয়সে আমরা এ সত্য খুব একটা উপলব্ধি করতে পারিনা। আমরা মনে করি, আমাদের বয়ষ্ক যারা আছেন তারা আজীবন বেঁচে থাকবেন। কিন্তু তা ভুল। আশেপাশে আপনার আপনজন কিংবা সকল মানুষের সঙ্গেই সর্বদা ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করুন।

দুশ্চিন্তা করা সম্পূর্ণ অর্থহীন

মনের ভেতর নানা রকম দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয় কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমাদের জীবনে এগুলো কোন উপকারে আসেনা। যা হওয়ার তা তো হবেই, দুশ্চিন্তা কি এটিকে রোধ করতে পারবে? যদি না-ই পারে, তাহলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করার দরকার কী বলুন? বৌদ্ধ প্রশিক্ষক থিচ নাত হ্যান খুব ভালো একটি কথা বলেছেন এ বিষয়ে-
‘দুশ্চিন্তা করলে আদতে কিছু অর্জিত হয় না। আপনি যদি বিশবার একটি বিষয় নিয়ে দিশ্চিন্তা করেন, তবুও সেটি বদলাবেনা। বরং, আপনার দুশ্চিন্তা সব বিষয়কে গুলিয়ে ফেলবে। আমরা কোন ব্যাপার মেনে নিতে না পারলেও অন্তত শান্ত থেকে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা তো করতে পারি। আমরা যদি নাই জানি যে কিভাবে নিঃশ্বাস নিতে হবে, হাসতে হবে কিংবা প্রতি মুহূর্তে বাঁচতে হবে তাহলে তো আমরা কাউকে সাহায্য ও করতে সমর্থ হবো না। আমি বর্তমান অবস্থানে বেশ ভালো আছি। আর কিছু চাইনা আমার। লক্ষ্যহীনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুশীলন’।

ক্ষণস্থায়ী অনুভূতির পেছনে ছোটাই হলো সকল যন্ত্রণার আধার

আমরা অনেকে এটাই জানি না যে কোনটি ক্ষণস্থায়ী ও কোনটি দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি। মাঝেমধ্যে উত্তেজনা, আনন্দ ও চঞ্চলতাকেই আমরা দীর্ঘস্থায়ী বলে ভুল করি। এবং সকল যন্ত্রণার মূল কারণ হলো এ সুখগুলো খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়না। আপনি যা এবং আপনার যা আছে তা নিয়ে শান্তিতে থাকাই হলো আসল সুখ এবং এর মাঝেই জীবনের পরিপূর্ণ সার্থকতা রয়েছে।
জীবনের অপরিবর্তনীয় সত্য এগুলোই। যত দ্রুত আপনি এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন, ততোই আপনার মঙ্গল। এগুলো কোনভাবে অবজ্ঞা না করে আপন লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণের পথে সোচ্চার হোন। অবশ্যই সফল হবেন আপনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here