গর্ভপাত করাতে গিয়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেপ্তার

0
80

fetus

গাইবান্ধায় প্রেমিকের পরামর্শে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশ ছাত্রীটির প্রেমিক আতিকুর রহমান আতিককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। আতিক সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মৌজা মালিবাড়ী গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী জেসমিন আক্তারের (১৮) সঙ্গে আতিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আতিকও একই কলেজের ছাত্র। জেসমিন এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, দুজনের সম্পর্ক শারীরিক মেলামেশায় গড়ালে জেসমিন গর্ভবতী হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় জেসমিন বিয়ের জন্য আতিককে চাপ দিলে আতিক নানা প্রতিশ্রুতি ও আপাতত গর্ভপাতের পরামর্শ দেন। জেসমিন তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হন। সেই মতে, গতকাল শুক্রবার সকালে দুজনে গাইবান্ধা শহরের মাস্টারপাড়ার ধাত্রী কুলসুম বেগমের বাসায় যান।

সেখানে কুলসুম জেসমিনের গর্ভপাত ঘটালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দুপুরের দিকে কুলসুম জেসমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শদেন। আতিক তাঁকে ইজি বাইকে তুলে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানান। আতিক তখন বেকায়দা দেখে জেসমিনকে নিয়ে তাঁর বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে জেসমিন মারা যান। আতিক লাশ নিয়ে গিয়ে তাঁর মা-বাবাকে জানান, জেসমিন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। কিন্তু জেসমিনের পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা আতিককে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

সদর থানা থেকে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং আতিককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জেসমিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে জেসমিনের মা সুমি বেগম সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আতিক আমার মেধাবী মেয়েটিকে মেরে ফেলেছে। এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আমি এর বিচার চাই। ’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল ওয়াহেদ জানান, আতিক প্রেম, শারীরিক মেলামেশাসহ গর্ভপাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ধাত্রী কুলসুম এখন পলাতক। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ধাত্রী কুলসুম তাঁর স্বামী মাহাতাব উদ্দিনকে নিয়ে মাস্টারপাড়ার জাকিয়া সুলতানার বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই ঘটনার পর পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক এক প্রতিবেশী জানায়, কুলসুম দীর্ঘদিন থেকে ওই বাড়িতে অবৈধ গর্ভপাতের ব্যবসা চালাচ্ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here