খিলগাঁওয়ে খালি বাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ

0
28

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের খালি বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর লাশ পাওয়া গেছে।

খিলগাঁওয়ে খালি বাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ

মাহিন আক্তার নামে ৯ বছরের ওই শিশুটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ ক্লাবের মোড়ের বাসা থেকে স্বজনরা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া মাহিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, বাবা-মায়ের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিশুটি বাসায় একা ছিল। স্বজনরা ঘটনাকে আত্মহত্যা বলছেন, প্রাথমিক তদন্তে তার কিছু আলামতও মিলেছে। তবে এই বয়সে তার আত্মহত্যার ধারণাই থাকার কথা না। কেন আত্মহত্যা করল- তার তদন্ত চলছে। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে কি-না, তা জানতে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মাহিনের বাবার নাম আব্দুর কাইয়ুম। স্ত্রী ময়না বেগম ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সিপাহীবাগ ক্লাব মোড়ের বাসায় থাকতেন। বড় মেয়ে খিলগাঁও মডেল স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। শিশু মাহিনও ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

আবদুল কাইয়ুম ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, সকালে তিনি দুই মেয়েকে স্কুলে রেখে আসেন। ছোট মেয়ের আগে ছুটি হওয়ায় দুপুরে তাকে বাসায় স্ত্রীর কাছে দিয়ে কাজে বেরিয়ে যান। এরপরই মাহিনকে ওর মা একা বাসায় রেখে পাশে তার মায়ের বাসায় গিয়েছিল।

কাইয়ুম বলেন, স্কুল থেকে ফেরার সময় মাহিন হাসিখুশি ছিল। তার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথাও হয়। হাসিখুশি মনে বাসায় ফিরে মেয়ে গলায় ফাঁস দিল, তা বিশ্বাস হচ্ছে না বলেই কেঁদে ফেলেন তিনি। তবে তার মেয়েকে কেউ হত্যা করতে পারে তাও বিশ্বাস করতে পারছেন না।

ময়না বেগম পুলিশকে জানান, মেয়েকে বাসায় রেখে তিনি একই এলাকায় তার মায়ের বাসায় যান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বাসায় ফিরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় সানশেড দিয়ে দেখেন- শোবার কক্ষের সিলিং ফ্যানে মাহিন ঝুলছে। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে বের করা হয়।

খিলগাঁও থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এতটুকু শিশু ফাঁস দিতে সিলিং ফ্যানের নাগাল কীভাবে পেল; কোনো চেয়ার বা টেবিল দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিতে উঠেছে কি-না, স্বজনরা আগেই লাশ নামিয়ে ফেলায় তা বোঝা যায়নি। তবে এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। আত্মহত্যা করলে এর কারণই বা কি- সে বিষয়েও বাবা-মায়ের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here