ক্রেতারা বলছে দাম বেশি মানতে নারাজ বিক্রেতারা

0
3

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুই দিন। এরই মধ্যে জমে উঠেছে পশুর হাট। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে। রাতে বেশির ভাগ হাটেই বেচাকেনা বেড়েছে বলে জানা যায়। বিক্রেতা ও ইজারাদাররা জানান, আজ বৃহস্পতিবার ও কাল শুক্রবার পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। এ বছর রাজধানীতে ২৪টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সর্বশেষ ১৬টি আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সাতটি হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে। ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বাদেও রয়েছে গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট।

ক্রেতারা বলছে দাম বেশি মানতে নারাজ বিক্রেতারা

গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে কোরবানির পশু পছন্দ করছে। কেউ এসেছে একা, কেউ পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে করে এনেছে। বিকেলে কমলাপুর বালুর মাঠের হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন খিলগাঁও সি ব্লকের বাসিন্দা মো. ফয়েজ মিয়া।

তিনি বলেন, গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। ৯ মণ মাংস হবে—এমন একটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা। অথচ গরুটির সর্বোচ্চ দাম হওয়ার কথা দেড় লাখ টাকা। তবে তাঁর কথা মানতে নারাজ চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে আসা ব্যবসায়ী এনামুল হক। তিনি বলেন, আমি ৩৬টি গরু নিয়ে এসেছি। ৯ মণ মাংস হবে—এমন গরু আড়াই লাখ টাকা চাচ্ছি। দুই লাখ টাকার কম বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। এ হাটের ১ নম্বর কাউন্টারে হাসিল আদায়ের দায়িত্বে থাকা নাঈম আহম্মেদ জানান, বিক্রি এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রি হবে।

গতকাল দুপুরে জিগাতলার হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ লেদার কলেজ মাঠের বাজারে গরু কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী কামরুল হাসান। ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে বাজারের দরদামের ধারণা নিয়েছেন। এরপর দেখেশুনে একটি গরু পছন্দ করলেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের অনুমান গরুটির সাড়ে পাঁচ মণ মাংস হতে পারে। বিক্রেতা এক লাখ ২০ হাজার টাকা চাইলেও গরুটির দাম ঠিক হলো ৯৮ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি মাংসের দাম পড়ল প্রায় সাড়ে ৪০০ টাকা। সঙ্গে খাজনার একটা অংশ রয়েছে।

এবার গরুর দাম গত বছরের চেয়ে বেশি কি না জানতে চাইলে কামরুল হাসান বলেন, খুব একটা বেশি না। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস যে দামে বিক্রি হচ্ছে সেই অনুপাতে দাম ঠিক আছে। তবে আমরা যারা কিনছি তাদের মাংসের ধারণাটা ঠিকঠাক আন্দাজ করতে হবে। না হলে কিন্তু দাম বেশি পড়ে যাবে। টিসিবির দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে ঠিক এই সময়ে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হতো ৪১০ থেকে ৪৩০ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম বেড়েছে। মণপ্রতি (৪০ কেজি) হিসাব করলে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার কী পরিমাণ বেশি দামে গরু বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে একটি ব্যাখ্যা দিলেন ফরিদপুর থেকে গরু বিক্রি করতে আসা আনিসুল মিয়া। তিনি বলেন, গত বছর প্রতি মণ মাংস ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা হিসাবে গরু বিক্রি হয়েছে। এবার বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মণ হিসাবে, যা বাজারের স্বাভাবিক দামের মতোই। একে বেশি বলা যাবে না। কারণ গরু পালতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আরো কয়েকজন বিক্রেতা ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। সিটি করপোরেশন নির্ধারিত এ বাজার প্রতিবছরই বেশ জমে ওঠে। গতকাল সকাল থেকেই মোটামুটি বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। হাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানালেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা রাত গরু কেনাবেচা চলবে। হাজারীবাগ, বেড়িবাঁধ ও জিগাতলার প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই হাট বসেছে।

এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি অলিগলিতেই সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে গরু। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারী ও খামারিরা গরু নিয়ে এসেছে ঢাকার এই হাটে; যেখানে পাওয়া যাচ্ছে কৃষকের পালিত গরু ও খামারিদের মোটাতাজা করা গরু। আমদানি করা কোনো গরুর দেখা মেলে না এ হাটে। আর চামড়ানগরী হিসেবে পরিচিত এলাকাটি এখন অস্থায়ীভাবে গরুর বাজারে পরিণত হয়েছে। ট্রাকে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনো গরু আসছে বলে জানাল ক্রেতা-বিক্রেতারা। হাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা হাজি মো. মনিরুল হক বাবু বলেন, চার কিলোমিটাজুড়ে এই হাট বসেছে। এখানে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিক্যালের দুটি টিম, পুলিশের টিম, ৪০ জন ক্লিনার কাজ করছে। প্রতিবছরের মতোই শেষ দুই দিন পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। আমাদের এ হাটের ঐতিহ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চাঁদরাতে।

এবার ডিএসসিসির এলাকায় হাট বসেছে মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, কামরাঙ্গীর চর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন জায়গা, ধুপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুর বালুর মাঠ, সামসাবাদ মাঠ (আরমানিটোলা সংলগ্ন), কাউয়ার টেক (সাদেক হোসেন খোকা মাঠ), হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মাঠ, পোস্তগোলা শিল্প এলাকার খালি জায়গা, লালবাগ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালি জায়গা, গোলাপবাগ মাঠ ও কমলাপুর টিটিপাড়া এলাকা। ডিএসসিসির সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা সামসুল আলম  বলেন, ইজারাদার বেশি অর্থ আদায় করে, তাহলে প্রতি হাটে আমাদের কন্ট্রোল রুম রয়েছে। সেখানে অভিযোগ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here