কুমিল্লায় পুলিশকে হুমকী দিয়ে পরীক্ষার্থীদের নকলে সহযোগিতা !

0
105

Co-operation of the candidates

রবিবার সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লা বুড়িচংয়ে অনুষ্ঠিত হল প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা। এই বছর বুড়িচং উপজেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫ শত ৩৫ জন । এর মধ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী ছাত্র সংখ্যা ৩ হাজার ৪৭ জন, ছাত্রী সংখ্যা ৩ হাজার ৪ শত ৩৬ জন। ১ম দিনে প্রাথমিক সমাপনী ইংরেজী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১০৭ ছাত্র, ছাত্রী ৬৪ জন মোট ১৭১ জন এবং ইবতেদায়ী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫২ জন ।

এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৫৫৫ জন, ছাত্রী ৪৯৭ জন । অনুপস্থিত ছিল ছাত্র ৭৭ জন, ছাত্রী ৩৭ জন মোট ১১৪ জন । কিন্তু বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, একটি কেন্দ্রের মধ্যে প্রশাসনের কঠোর দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও বুড়িচং কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু ডিগ্রি কলেজে কেন্দ্রে বহিরাগতদের সমাগম ও দেখাদেখির মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় এবং কিছু সচেতন শিক্ষানুরাগী লোকজনেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হল সু-শিক্ষার বীজ বপন করার একটি সময় । আর এমন সময় যদি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা বহিরাগতদের সহযোগীতা ও দেখাদেখি করে পরীক্ষা দেয় তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে আড়াল হয়ে যাবে।

এমন অভিযোগ শুনে রবিবার ১২ টায় কিছু সাংবাদিক কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু কলেজ কেন্দ্রে যায় । যাওয়ার পর ওই কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপজেলা যুব উন্নয়নের কর্মকর্তা গোলাম আজমের দৃষ্টিতে সাংবাদিক যাওয়াটা এতটা পছন্দ বোধ না বলে এমনি ভাষা প্রকাশ করলেন। তার সমস্যা হয় বলে তিনি জানান। কিন্তু সাংবাদিকরা অভিযোগ পরিক্রমে সততা নিশ্চয়তার জন্য তার কাছ থেকে দুরে অবস্থান করে এবং পড়ে অফিসে চলে যাওয়া হয় এবং পরীক্ষার্থীরা দেখাদেখির মহোৎসব কলেজের দু’তলা থেকে দেখা যায় তার চোখের সামনে দিয়ে বহিরাগতরা এসে কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করছে এবং হল রুমেও চলে যেতে দেখা যায়। তিনি বহিরাগতদের কিছু না বলে কলেজের অফিস কক্ষে বসে খোশ গল্পে মশগুল থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রের আইন শৃঙ্খলা দায়িত্বরত বাকশীমূল ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ রাহেলা বেগম তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই ইউনিয়নের ছয়গ্রামের মৃত আয়াত আলীর ছেলে মো: জহির জোর পূর্বক ভাবে আইনি তোয়াক্কা না করে পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করে প্রায় আধা ঘন্টা থেকে বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষার্থীদেরকে সহযোগীতা করছেন।

পুলিশের বাধা না মানাতে কেন্দ্র সচিব রেহেনা বেগমের কাছে এ বিষয়টি খুলে বলেন, তিনি তড়িৎ গতিতে আসার সাথে সাথে জহির হল রুম থেকে বের হয়ে এসে গ্রাম পুলিশ রাহেলা বেগমকে খারাপ ভাষায় গালমন্দ করেন তাকে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম নিয়ে ভয় দেখিয়ে হুমকি-ধুমকি প্রদান করে চলে যায়।

তাদের অভিযোগ বহিরাগতরা যদি কেন্দ্রে মধ্যে প্রবেশ করলে আমরা যদি বাধা প্রদান করি এবং এইভাবে যদি হুমকি-ধুমকি দেয় তাহলে আমরা কিভাবে ডিউটি করব এবং তিনি আরো জানান, এ বিষয়টি প্রশাসনকে বলে সঠিক বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি জানান। পরিশেষে, বহিরাগতদের প্রবেশের পর বিভিন্ন সহযোগীতা করার সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারন করলে অফিস কক্ষ থেকে কিছু শিক্ষক এসে প্রকাশ না করার এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে যেন না জানায় অনুরোধ করে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম মুন্সী কে অবগত করলে তিনি বলেন আমি ঘটনাস্থলে যাইনি কিন্তু আমি সততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং তিনি আরো বলেন বহিরাগতরা ২০০ গজের বাহিরে থাকবে। বহিরাগতরা এর ভিতরে প্রবেশ করার কোনো অনুমতি নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বলেন এই ব্যাপারে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি যদি এমন হয়ে থাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here