প্রথম কর্ম দিবস যেভাবে শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

0
59

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার একমাস ছুটি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা উচ্চ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ৩রা অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটে আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন তিনি। বেলা ১০টা পর্যন্ত তিনি ২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন বলে দাবি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ।

এরপর সাড়ে ১০টা থেকে উভয় বিভাগের বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় আইনজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা এবং সুপ্রিম কোর্টের সর্বস্তরের আইনজীবীরা অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্ব চলে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সোমবার একমাসের ছুটিতে যাওয়ায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে আজ ই (মঙ্গলবার)তার প্রথম কর্ম দিবস।

প্রথম দিন তিনি জরুরি ভিত্তিতে ফুলকোর্ট সভা ডাকেন। সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সভাপতিত্ব করেন। তিনি উপস্থিত বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সব বিচারপতিকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

এদিকে প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করেছেন। সকালে আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহিদুল বারী এবং সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক ও সাধারণ সম্পাদক আবু ইয়াহিয়া দুলাল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘অবকাশকালীন দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগদান করেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। এ অবস্থায় সোমবার দুপুরের পর এমন কী ঘটলো যে, হঠাৎ আবারও একমাসের ছুটিতে গেলেন।’ বিষয়টি অস্বাভাবিক এবং দেশ ও বিচার বিভাগের প্রতি অশনি সংকেত বলেও মনে করেন তারা।

এছাড়া, সোমবার তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে তার সরকারি বাসভবনে যান আইনজীবী সমিতির নেতারা। কিন্তু তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন। এ বৈঠক থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সমিতির করণীয় ঠিক করতে সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বিকালে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকালে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠক করেন তারা।

বৈঠক শেষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনজীবী সমিতি মনে করে, তার (প্রধান বিচারপতি) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে তিনি একমাসের জন্য ছুটিতে চলে যান। গোটা পৃথিবীর মানুষ জানে যে, একটি রায়ের পর একটি রাজনৈতিক দল, সরকার বিভিন্নভাবে তার (প্রধান বিচারপতি) ওপর চাপ প্রয়োগ করছিল। আমরা মনে করি, সেই চাপের অংশ হিসেবে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় ছুটিতে যাননি এবং তাকে বাধ্য করা হয়েছে।’

অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আইনজীবী সমিতিকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে এ ধরনের কথা বলে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।’ প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’ একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে নানারকম ফায়দা লুটতে চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আরও জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here