অবশেষে জানা গেল ‘নাবিলা জানো’র রহস্য!

0
25

nabila jano

ঢাকার রাস্তার দেয়ালগুলোতে একটি রহস্যজনক পোস্টার নিয়ে গত কয়েকদিন বেশ আলোচনা চলছিল। তেজগাঁও, সার্ক ফোয়ারা, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, সাইন্সল্যাব এবং ধানমন্ডিসহ বেশ কিছু এলাকার দেয়াল একটি লাল রং এর পোস্টারে ছেয়ে গেছে। সেখানে সাদা হরফে লেখা আছে- নাবিলা জানো? তার নিচেই একটু ছোট করে লেখা- ‘একজন মুমূর্ষ রোবটের জন্য রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ (N+)’। ঢাকার ব্যস্ততম এ এলাকাগুলোয় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করে, যাদের মাধ্যমে খুব দ্রুতই এ পোস্টার সামাজিক

যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পৌঁছে ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ পোস্টার নিয়ে চলেছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই সুবোধের গ্রাফিতির সঙ্গে খুঁজে ফিরছে নাবিলার যোগসূত্র। তবে সবকিছু ছাপিয়ে একটা প্রশ্নই লোক মুখে ঘুরে ফিরে আসছে- কে এই নাবিলা? কেনই বা একজন রোবটের জন্য তার কাছে রক্ত চাওয়া হচ্ছে? মুমূর্ষু রোবট দ্বারা কী মানুষের বিমর্ষ রূপ বোঝানো হয়েছে, কিংবা ক্রমশ হৃদয়হীন হয়ে উঠা মানুষটাকেই বোঝানো হয়েছে?

তবে আজ খুব সকালে ফেসবুকে ‘নাবিলা জানো’ নামের এক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে একজন প্রেমিক দাবি করেন এ পোস্টারটি তার প্রেমিকা নাবিলার জন্য লাগানো হয়েছে। তিনি সেখানে দাবি করেন এ পোস্টারটির সঙ্গে সুবোধের গ্রাফিতির কোনো সংযোগ নেই, এমন কি দেশের অন্য কিছুর সঙ্গেই এর কোনো যোগসূত্র নেই। এটা শুধুই এক প্রেমিকার জন্য প্রেমিকের আকুতি। তিনি সেখানে বলেন, এর আগে কোনো প্রেমিক তার প্রেমিকার জন্য এ ধরনের কাজ করেননি বলে মানুষ এই পোস্টারের ভাষা বা উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি। তিনি আরো লেখেন, ঐ পেজ থেকে ঐটাই তার প্রথম এবং শেষ পোস্ট। যদিও এটি আদৌ কতটা সত্য, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

পাঠকদের জন্য ‘নাবিলা জানো’ পেজের ঐ পোস্টটি তুলে দেওয়া হল-

“নাবিলা চলে গিয়েছিলো শীতের আগেই। । কুয়াশার দিনে শূন্যতা ভয়প্রিয় অন্তর গুড়িয়ে দিয়েছিল। শেষ যে রাতে আমাদের যোগাযোগ ছিল সে রাতে আমাকে নাবিলা ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলো নিশ্চিন্তে। আমি ছিলাম ঘুমে, জেগে দেখেছি নির্মম শূন্যতা, নাবিলাকে রোজ লিখা চিঠির উপর চিঠি, অক্ষরেরা রক্তাক্ত। আমার প্রেম মরে গেছে। মরে গেছে। এতো চিঠি যার সে চলে গেছে এটা কখনই সম্ভব না বলে। চিঠির প্রতিটি অক্ষর যেনো আমাকে বুকটাকে বুলেট হয়ে ঝাঁজরা করে দিলো। প্রতিটি চিঠির শেষে “নাবিলা জানো?…” বলে তাকে নিয়ে দেখা আকাশ সমান সব স্বপ্নের কথা বলতাম। তখন ঐ মূহুর্তে প্রতিটি চিঠিতে লিখা তাকে নিয়ে দেখা হাজার টা স্বপ্নের মধ্যে কয়েকটি স্বপ্ন খুব কানে বাজছিল “নাবিলা জানো? আমার অনেক ইচ্ছা একদিন কোনো এক শীতের সকালে খুব ভোরে আমরা হাত ধরে সারা শহরে ঘুরে বেড়াবো। ঘন কুয়াশায় কেউ দেখবেনা আমাদের হাত ধরে থাকা!, নাবিলা জানো? আমার অনেক ইচ্ছা একদিন তোমাকে নিয়ে ট্রেনে চড়ে অনেক দূরে যাবো, তুমি ট্রেনের জানালার পাশে বসবে, বাতাসে তোমার চুল বার বার মুখের এসে পড়বে আর আমি সে দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখবো, নাবিলা জানো? আমার অনেক ইচ্ছা আমার বিয়ের দিন আমাদের বাসর ঘরে বিছানা ফুলের পরিবর্তে তোমাকে নিয়ে লিখা হাজারটা চিঠি দিয়ে সাজানো থাকবে। তুমি আমার বুকে চিঠি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যাবে।

সেই স্বপ্ন গুলোকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে চলে গিয়েছিলো নাবিলা। আর ফেরার নাম নেই। তাই সারা শহরের দেয়ালে দেয়ালে সেঁটে দিয়েছিলাম পোস্টার আমার চিঠির ভাষায় “নাবিলা জানো? একজন মুমূর্ষু রোবটের জন্য রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ N+” কারন নাবিলা যে আমার রক্তের ভিতরে শ্বেত রক্ত কণিকা হয়ে বাসা বেধেছিলো। আমার ভিতরে নাবিলা শ্বেত রক্ত কণিকা হয়ে প্রেম জমিয়ে রাখতো। আমাকে বাঁচিয়ে রাখতো। আমাকে নিশ্বাস নিতে দিতো। পোস্টার নাবিলা দেখেছিলো ঘুম থেকে উঠেই দেখেও নাবিলার কোনো খবর নেই। তার ঠিক পরের মধ্যরাতে। আমি রোবট হয়ে বসে ছিলাম ছাদের উপরে। ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করছিলাম কখন আমার সময় শেষ হবে। চোখে আমার এক প্রশান্ত মহাসাগর পানি। ঠিক তখনি রাতের সব নীরবতাকে দুমরে মুচরে বেজে উঠলো আমার মুঠো ফোন। ওপাশের গলাটা শুনে মনে হলো ঈশ্বর আমার ডাকে সাড়া দিতে দূত পাঠালো। ভাবিনি সেই দূতটার নাম হবে নাবিলা। আমি যেনো সেই চিকন মায়াবী কন্ঠটি শুনে রোবট থেকে পাথর হয়ে গেলাম। নাবিলা খুব যত্ন নিয়ে পাথরটি টুকরো টুকরো করে দিয়ে বললোঃ
নাবিলাঃ আজ নাকি আকাশে অনেক সুন্দর চাঁদ উঠেছে?

আমিঃ নাবিলা জানো?
নাবিলাঃ জানিনা বলেই জিজ্ঞাসা করলাম আজ নাকি আকাশে অনেক সুন্দর চাঁদ উঠেছে? আমার জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছেনা।
আমিঃ হ্যাঁ, আজ আকাশে চাঁদ উঠেছে। তবে সুন্দর কিনা বলতে পারছিনা।
নাবিলাঃ আমাকে দেখাওতো চাঁদটা!
আমিঃ কিভাবে?
নাবিলাঃ ছবি তুলে পাঠাও সুন্দর করে একটা। আমি কভার ফোটোতে দিবো। কতদিন কভার চেঞ্জ করা হয়না!!
(ছবি তুলে পাঠানোর পরে)

নাবিলাঃ বাহ! বলতো আজকের চাঁদটার কেনো ছবি তুলে রাখতে বললাম? আমার কভারে দেয়ার কারন ছাড়াও আরেকটা কারন আছে!
আমিঃ জানিনাতো!
নাবিলাঃ কারন আজকের চাঁদটা সাক্ষী। চিরদিনের সাক্ষী হয়ে থাকবে।
আমিঃ কিসের সাক্ষী?
নাবিলাঃ আজ থেকে আমি তোমার।
আমিঃ N Positive.
নাবিলাঃ N Positive Too!

(কারন আমাদের দুজনের নামের প্রেথম অক্ষর N)
শেষের অংশটুকু লিখতে গিয়ে জানিনা কেমন যেনো ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম।
এ হলো “নাবিলা জানো?” পোস্টারের গল্প। এর সাথে সুবোধ কিংবা দেশের কোনো কিছুরই সম্পর্ক নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে একজন প্রেমিক তার প্রেমিকার মন জয় করার জন্য অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু প্রেমিকার জন্য সারা শহরে পোস্টার লাগানোর মত কাজ কেউ আজ পর্যন্ত করেনি তাই হয়তো অনেকে বুঝতেই পারেনি এই পোস্টারের উদ্দেশ্য কিংবা ভাষা। আমরা সকলের দোয়া প্রার্থী!
এই পেইজ থেকে এটাই প্রথম এবং শেষ পোস্ট”!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here