অপ্রতিরোধ্য এক হ্যাকারের গল্প

0
29

অনলাইন ডেস্ক:

Hacker
জর্জ হটজ হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি আইফোন অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা বলয় ভাঙতে পেরেছিলেন। ২০০৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আইফোন অপারেটিং সিস্টেম আনলক করে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিনি ডেভেলপ করেন আইফোন অপারেটিং সিস্টেম নষ্ট করার জন্য জেলব্রেক টুল ও বুট্রম। সনি প্লেস্টেশন থ্রি ব্রেক করার পর সনি কোম্পানির সঙ্গে তুমুল আইনি লড়াইও চলে। প্লেস্টেশন নেটওয়ার্ক হ্যাক করে ৭৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করে জর্জ হটজের হ্যাকার গ্রুপ। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক তারকা স্টেটাস অর্জন করে ফেলেছেন জর্জ হটজ। হ্যাকার হিসেবে শুরু করে শেষ পর্যন্ত চালকবিহীন গাড়ি তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কার করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই তরুণ।

ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ জর্জের। ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ইন্টেল সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং মেলায় আশ্চর্য রোবট তৈরি করে তিনি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত রাউন্ডে পৌঁছেছিলেন। একটি ঘর স্ক্যান করে তার যথাযথ পরিমাপ কষে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল সেই রোবট। তবে এখানেই শেষ নয়, জর্জ হটজের ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে আরও অনেক সাফল্যের পালক।

২০০৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘জিওহট’ ছদ্মনামের আড়ালে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ঝড় তোলেন তিনি। তিনিই প্রথম আইফোনের ক্যারিয়ার আনলক আবিষ্কার করেন, যার সাহায্যে আমেরিকান সংস্থা এটিঅ্যান্ডটি-এর ক্যারিয়ার ছাড়াও এই ফোন ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এর জেরে রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকা বনে যান জর্জ হটজ। বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলের অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পাশাপাশি তার আনলক করা দ্বিতীয় ৮ জিবি আইফোনটির বদলে সার্টিসেল সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা টেরি ডাইডোনের থেকে পান একটি নিসান ৩৫০ জেড স্পোর্টসকার ও ৩টি ৮ জিবি আইফোন। ২০০৯ সালে জর্জ বাজারে আনেন blackra1n জেলব্রেক টুল। আইওএস যার সাহায্যে এই মোবাইল ডিভাইসের ইউএসবি এক্সপ্লয়েট কাজে লাগিয়ে ডিভাইসে আনসাইনড কোড চালু করা সম্ভব হয়। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে সনি প্লেস্টেশন ৩-এর সিকিউরিটি ভাঙার ইচ্ছা প্রকাশ করেন জর্জ। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি সেই ইচ্ছাপূরণ করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই গেমিং কনসোলের জন্য একটি পাবলিক জেলব্রেক টুল আবিষ্কার করেন। তবে তার এই কীর্তিতে মোটেই খুশি হয়নি সনি। জনসমক্ষে জেলব্রেক টুল প্রকাশ করার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয় সংস্থাটি। ২০১১ সালে অবশ্য আইনি লড়াই শেষ হয়ে দু’পক্ষের মধ্যে রফা হয়। ঠিক হয়, ভবিষ্যতে সনির কোনো পণ্য হ্যাক করা থেকে বিরত থাকবেন জর্জ। কলেজের পাঠ শেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নেন হটজ। এই সময় এক বন্ধুর মাধ্যমে জর্জের সঙ্গে পরিচয় হয় টেসলা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের সঙ্গে। পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, টেসলাকে স্বয়ক্রিয় গাড়ি তৈরির ব্যাপারে প্রযুক্তিগত সহায়তা করবেন জর্জ। টেসলার হয়ে কাজ করার জন্য এলন জর্জকে ১.২ কোটি ডলার বেতন এবং বোনাসের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন জর্জ হটজ।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের সংস্থা Comma.ai শুরু করেন জর্জ হটজ। তার নিজস্ব গ্যারাজে তৈরি হয় সংস্থার অফিস। অল্প দিনের মধ্যেই চালকবিহীন অ্যাকিউরা আইএলএক্স নামের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। জর্জের লক্ষ্য, এক হাজার ডলার দামের ভেতর স্বয়ংক্রিয় গাড়ির কিট তৈরি করা। এই কিটের সাহায্যে যে কোনো গাড়ি চালক ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আর এটি হলে বিশ্বের সব গাড়িকেই স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here