অধিকারের দিক দিয়ে সৌদি নারীদের চেয়ে এগিয়ে আছে ‘সোফিয়া’!

0
23

sofia robot

‘নারী’ রোবট ‘সোফিয়া’কে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেওয়ার এটি একজন সৌদি নারীর চেয়ে বেশি অধিকার ভোগ করছে কি-না তা নিয়ে এবার বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে রোবটটি প্রদর্শন করা হয়।

প্রদর্শনীতে উপস্থিত শত শত প্রতিনিধি রোবটটি দেখে এতটাই মুগ্ধ হন যে রোবটটিকে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।

এরপর রোবট ‘নারী’ সোফিয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়।

তবে এরই মাঝে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন যে— একজন সৌদি নারীর তুলনায় ‘সোফিয়া’ বেশি অধিকার ভোগ করছে।

হংকংয়ের কোম্পানি ‘হ্যান্সন রোবোটিক্স’ সোফিয়া নামের রোবটটি তৈরি করেছে। ‘সোফিয়া’ ইংরেজিতে কথা বলে। কিন্তু তার মাথায় হিজাব বা পরনে আবায়া (বোরকা সদৃশ আচ্ছাদন) নেই। অথচ যে কোনো সৌদি নারীকে বাইরে বেরুতে হলে এসব পরেই বেরুতে হয়।

‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেওয়ার খবরটি দেখে প্রথমত সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ ইতিবাচক। এই খবরটি টুইটারে তিরিশ হাজার বার শেয়ার হয়। কিন্তু এর পরেই শুরু হয় এ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।

‘সোফিয়া কলস ফর ড্রপিং গার্ডিয়ানশিপ’ অর্থাৎ সোফিয়া তার ওপর অভিভাবকের খবরদারি তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে বলে আরেকটি বিদ্রুপাত্মক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে থাকে।

সৌদি রীতি অনুযায়ী কোন মেয়েকে বাইরে যেতে হলে সাথে অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবক থাকতে হবে।

অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সোফিয়ার কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই, সে আবায়া (বোরকা) পরিধান করে না, মাথায় কাপড় দেয় না— এটা কীভাবে সম্ভব? একটি নারী রোবটের অধিকার কি একজন সৌদি নারীর চেয়ে বেশি?

যেরকম দ্রুততার সঙ্গে ‘সোফিয়া’কে সৌদি নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সাংবাদিক মুর্তজা হোসেন লিখেছেন, “যে ‘কাফালা’ (অভিবাসী) শ্রমিকরা তাদের প্রায় পুরোটা জীবন এখানে কাটাচ্ছেন তাদেরও আগে এই রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেয়ে গেল?”

ব্রিটিশ-লেবানিজ সাংবাদিক কারিম চাহায়েব লিখেছেন, ‘লাখ লাখ মানুষ যখন রাষ্ট্রবিহীন নাগরিক হিসেবে ধুঁকছে, তখন একটি রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেল।’ সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here